সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালায় অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। তিনি বলেছেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করা কিংবা তাদের জন্য আলাদা কোন আইন প্রণয়ন করা যায় কিনা এ বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলের সুযোগ যেন শ্রমিকেরা সঠিকভাবে পায় এ বিষয়ে মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে।’
বুধবার (২৩ আগস্ট) ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত নারীশ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারটির আয়োজন করে নারীশ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ‘নারীশ্রমিক কণ্ঠ’ থেকে কর্মজীবী নারী ও ফ্রিডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশ।
সেমিনারে সংগঠন দুটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত নারীশ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ জানায়। তাদের সুপারিশগুলো হচ্ছে— অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা; শ্রম আইনে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
এছাড়াও জাতীয় বাজেটে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা; বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সংস্কার করা; সরকারি নীতি-নির্ধারণ ও কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে নারীশ্রমিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় এনে তাদের দুরবস্থা ও অসহায়ত্ব দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা; নারীশ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা; শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা; সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা এবং নারীশ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়াসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে সংগঠন দুটি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এফইএস'র আবাসিক প্রতিনিধি ফেলিক্স কল্বিট্স, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, মহিলা বিষয়ক অধিদফরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) আয়শা সিদ্দিকী, শ্রম অধিদফরের উপপরিচালক (মেডিক্যাল ও শ্রম কল্যাণ শাখা) রোখসানা চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. এম. আবু ইউসুফ, ক্রিয়েটিভ পাথওয়েজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিয়া হক প্রমুখ।









