রাজধানীর কলাবাগান সেন্ট্রাল রোডের একটি বাসায় গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে শিশু গৃহপরিচারিকা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত গৃহপরিচারিকার পরিচয় শনাক্তের সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। রবিবার (২৭ আগস্ট) রাত পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে।
এর আগে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নার্গিস আক্তার ঝরা শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার আগে যেকোনও সময়ে গৃহকর্ত্রী সাথী পারভিন ডলি (৪৫) তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। শিশুটি তিন বছর ধরে ওই বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতো। শিশুটিকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এ ছাড়া শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরনো নতুন জখমের চিহ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শিশুটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গৃহকর্ত্রী সাথী পারভীন ডলিকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান চলছে বলে জানান কলাবাগান থানার ডিউটি অফিসার রমজান আলী।
মর্গ সূত্রে জানা গেছে, শিশুর শরীরে নতুন-পুরনো জখম পেয়েছেন চিকিৎসক। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যেসব পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে, সেসবের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রভাষক তৌহিদা বেগম। তবে মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এর আগে শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে খবর পেয়ে সেন্ট্রাল রোডের ভূতের গলি এলাকায় ৭৭ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্লাট থেকে লক ভেঙে বিছানার ওপর থেকে শিশু গৃহপরিচারিকার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কলাবাগান থানার পুলিশ।
পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, সাথী পারভীন ডলি নামে এক নারী তার এক সন্তানকে নিয়ে একাই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায় অনেক আগে। ওই বাসায় শিশুটি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। ওই নারী শুক্রবার সকালে বাসায় তালা দিয়ে তার বাচ্চাসহ বের হয়ে যান বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে ওই ফ্ল্যাটের ম্যানেজার মফিজুর রহমান বলেন, আমি এই ফ্ল্যাটে দুই বছর ধরে কাজ করে আসছি। তখন থেকেই দেখছি শিশুটিকে সাথী আক্তারের বাসায় কাজ করে।









