টাঙ্গাইল-২ আসনের (গোপালপুর-ভূয়াপুর) সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক তরুণী। এ সময় ছোট একটি শিশুকেও সঙ্গে এনেছেন তিনি। অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাকে অর্থ ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি টাকা চাই না, আমার বাচ্চার অধিকার চাই।’
সোমবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণী লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ছিল। সেকথা গোলাম কিবরিয়াকে (বড় মনির) জানিয়েছিলাম আমি। বড় মনির সেই সমস্যা সমাধান করে দেবে বলে আমাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে সুকৌশলে ধর্ষণ করে এবং আমার বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলে। পরে আমাকে ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে প্রকাশ করতে নিষেধ করে এবং প্রকাশ করলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।’
তিনি বলেন, ‘পরে আমার ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার আমাকে ধর্ষণ করে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ফলে একপর্যায়ে আমি গর্ভবতী হয়ে যাই। বিষয়টি তাকে জানালে বিবাদী আমাকে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকে।’
এ বিষয়ে মামলা করতে টাঙ্গাইল সদর থানায় গেলে থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতেও রাজি হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যেমে প্রচার হওয়ার পরে থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয় জানান তিনি।
স্থানীয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাকে সহযোগিতার বদলে বিভিন্ন সময় হয়রানি করেছে। পরে আসামি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
তিনি বলেন, ‘বড় মনি জেলে যাওয়ার পর থেকে অসুস্থতা দেখিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি। দীর্ঘদিন ডিএনএ স্যাম্পল দিতে গড়িমসি করার পর গত ২১ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশে আসামি ডিএনএ স্যাম্পল দিতে বাধ্য হয়।’
অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মামলার ডিএনএ’র ফলাফল পরিবর্তন করতে আসামির কোনও পেরেশানি হবে না। পুলিশ সুপার নিজেই ডিএনএ রিপোর্ট পরিবর্তন করতে আসামিকে সহযোগিতা করবেন।’
এরইমধ্যে বিষয়টি মিমাংসা করতে বড় মনিরের পক্ষে ১ কোটি টাকা ও একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি টাকা চাই না, আমার বাচ্চার পিতৃ পরিচয় চাই।’









