বাংলাদেশে প্রতি বছর বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক এবং দুর্নীতি সহায়ক। এই ব্যবস্থা চিরতরে বাতিল করা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী দ্বিতীয় ও পঞ্চম অধ্যায় বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি’ নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংস্থাটির সুপারিশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে কমিশনকে। জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত অগ্রগতি দৃশ্যমান উল্লেখ করে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে এবং অনেক অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে বলেও জানায় টিআইবি।
সুপারিশে বলা হয়েছে– দুদকের এখতিয়ার এবং এর কার্যপরিধি খর্ব করে– আইনের এমন ধারাগুলো এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাতিল করতে হবে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশোধন করে ২০১২ সালের সংস্করণে যেসব বিষয়কে মানিলন্ডারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল সেগুলো পুনরায় এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্বাধীন সত্তার (যেমন: সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল) ওপর ন্যস্ত করতে হবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ ও অপসারণের এখতিয়ার; বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে একে সম্পূর্ণ পৃথক করতে হবে; অধস্তন আদালতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে সরকারি নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি; বিচারিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আয় ও সম্পদের তথ্য প্রকাশ ও হালনাগাদ করাসহ আচরণবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটর ক্যাডার সার্ভিস চালুর কথাও জানায় টিআইবি।
টিআইবি জানিয়েছে, দুর্নীতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ ও অন্যান্য কার্য পরিচলনায় আইনগত বাধা দূর করে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ সহজ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিতকরণে সম্পদের বাৎসরিক বিবরণ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি ও প্রয়োগের ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু ও ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে।
ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ বৃদ্ধি এবং সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দূর করতে হবে। সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি প্রবর্তনের কথাও বলা হয় সুপারিশে।









