বাজারে পাওয়া তামাকজাত পণ্যের মোড়কের ৯০ শতাংশজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা বাণী প্রচারের দাবি জানিয়েছে টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টি টোবাকো এলায়েন্স (বিএটিএ) ও টিসিআরসি।
চলতি বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগীয় শহরের বাজার থেকে পাওয়া ২১৬টি তামাকপণ্যের ওপর গবেষণা চালিয়েছে টিসিআরসি। গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল পাঠ করেন সংগঠনটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ফারজানা জামান লিজা।
গবেষণা ফলাফলে বলা হয়, বাজারের পাওয়া তামাকপণ্যের মোড়কের ৮৭ শতাংশজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া গেছে। ৩৩ শতাংশ মোড়কের ৫০ শতাংশ এলাকাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হয়েছে। ৭৯ শতাংশ মোড়কের উভয়পাশে সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হয়নি। ৮২ শতাংশ মোড়কে ছবির সঙ্গে লিখিত বার্তা দেওয়া হয়েছে। ৫৭ শতাংশ মোড়কের লিখিত সতর্কবাণী কালো জমিনে সাদা অক্ষরে মুদ্রিত হয়েছে।
২২ শতাংশ মোড়কের সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল/কাগজ দিয়ে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে। ৩৫ শতাংশ মোড়কে ‘শুধু বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত’ মর্মে কোনও বাণী দেওয়া হয়েছে। ১০০ শতাংশ বিড়ির মোড়কের সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ব্যান্ডরোল দিয়ে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে। কোনও সিগারেটের কার্টনেই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি। ৩৮ শতাংশ মোড়কে ভ্যাট রেজিস্টেশন নম্বর পাওয়া গেছে। ৩৪ শতাংশ মোড়কে ট্রেড লাইসেন্স নম্বর আছে। ৬১ শতাংশ মোড়কে উৎপাদনের তারিখ রয়েছে।
গবেষণা ফলাফলে আরও বলা হয়, ধোঁয়াযুক্ত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার হার ৮২ শতাংশ। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়া হার ৮৭ শতাংশ। ৮১ শতাংশ মোড়কে আইন দ্বারা নির্ধারিত ছবি মুদ্রিত হয়েছে। ৫৭ শতাংশ মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর সঙ্গে লিখিত সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে। সবগুলো সিগারেটের মোড়কে এমআরপি মুদ্রণ করতে দেখা গেছে। ৭৬ শতাংশ (১২৩টি) জর্দার মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, ৪৪ শতাংশ (৭১টি) জর্দার মোড়কে ভ্যাট রেজিস্টেশন নম্বর এবং ৩৭ শতাংশ (৫৯টি) জর্দার মোড়কে ট্রেড লাইসেন্স নম্বর মুদ্রিত হতে দেখা গেছে। কোনও সিগারেটের মোড়কেই উৎপাদনের তারিখ পাওয়া যায়নি।
গবেষণা ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে টিসিআরসি। তাদের সুপারিশগুলো হলো– সব তামাকপণ্যের মোড়কের ৯০ শতাংশ এলাকাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়া; বিড়ি, জর্দা ও গুলের স্টান্ডার্ড প্যাকেজিং প্রবর্তন; খুচরা শলাকা ও পানের সঙ্গে জর্দা বিক্রি বন্ধসহ খোলা তামাক পাতা ও সাদা মোড়কের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো; উৎপাদিত পণ্যের মোড়কে উৎপাদনকারী কোম্পানির নাম-ঠিকানা সুনির্দিষ্ট করে মুদ্রণের ব্যবস্থা করা ও উৎপাদনের তারিখ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং আর্ন্তজাতিক চুক্তি এফসিটিসির আলোকে দ্রুত প্লেইন প্যাকেজিং প্রবর্তন করা।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টিসিআরসির প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুল রহমান।
এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিকাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী মুক্তি, ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটি সোসাইটির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু প্রমুখ।








