২০২৩ সালের ২১ মে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাবের তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও রাজবাড়ী জেলার ৩১৪ চরমপন্থি। এ সময় তারা দুই শতাধিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণ করা চরমপন্থি সদস্যরা যাতে আবারও পুরনো জীবনে ফিরে যেতে না পারে, স্বাভাবিক পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, সেসব বিষয় বিবেচনা করে ৩১৪ চরমপন্থিকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয় র্যাবের পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে প্রত্যেক চরমপন্থিকে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করা হয়।
সিরাজগঞ্জ র্যাব ১২ সদর দফতর ব্যাটালিয়ানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) ৩১৪ চরমপন্থি সদস্যের হাতে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করবে র্যাব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন। এ সময় র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
র্যাব জানায়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে নব্বই এর দশকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার খুন সংগঠিত হয়েছে চরমপন্থিদের হাতে। র্যাবের সফল অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। চরমপন্থিদের সৃষ্ট ত্রাসের রাজত্ব র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানে ভেঙে পড়ে। শীর্ষস্থানীয় চরমপন্থিসহ বিভিন্ন চরমপন্থি দলের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ফলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফিরে আসে স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহের ক্রমাগত আভিযানিক প্রক্রিয়ায় চাপ সহ্য করতে না পেরে চরমপন্থি দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজতে থাকে। অপরাধ জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়া এসব চরমপন্থিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থি সদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন র্যাব ফোর্সেস এর মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সদয় বিবেচনা করে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যান তহবিল’ হতে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করেন। আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থিরা যাতে তাদের পুরনো অপরাধ জীবনে ফিরে না গিয়ে স্বাভাবিক পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে এবং যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেনি তাদেরকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত করে সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়।
আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থি সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে থাকে র্যাব। ‘উদয়ের পথে’ নামক পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থি সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য হস্তশিল্প প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধ নির্মূলে চরমপন্থিদের আত্মসমর্পণ এবং আর্থিক, মানবিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থিদের সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে এসে দেশের অপরাধ নির্মূলে সময়োপযোগী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে র্যাব। আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলার মধ্যে খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ ব্যাতীত অন্যান্য মামলাসমূহ যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।









