সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পাঠক-দর্শনার্থীদের আনাগোনায় বইমেলার দ্বিতীয় শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ছিল জমজমাট। বিক্রিয়কর্মী, প্রকাশক ও লেখকদের জন্যও ছিল দিনটি ব্যস্ততার। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মেলা-প্রাঙ্গণ ছিল মুখর। সকাল ১১টা মেলার দুয়ার খুলতেই বাড়তে থাকে লোকসমাগম। এদিকে, ভিড় থাকলেও বিক্রি নিয়ে প্রকাশকদের ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোনও কোনও প্রকাশক বিক্রি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ জানিয়েছেন হতাশার কথা।
সরেজমিন দেখা যায়, প্যাভিলিয়ন-স্টলগুলোর সামনে দলে দলে তরুণ-তরুণীরা রঙবেরঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে হাঁটছেন, বই দেখছেন। তাছাড়া মেলায় অনেক তরুণীই আসেন মাথায় ফুলের মুকুট, হাতভর্তি ফুলের মালা নিয়ে। তবে আজ আগতদের অনেকেই বই কিনেছেন। শিশু প্রহরে অভিভাবকদের সঙ্গে এসেছে বাচ্চারা।
কথা হয় লক্ষ্মীবাজার থেকে আসা শিক্ষার্থী তাবাসসুম মিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছুটির দিনে সবসময় আসার সুযোগ পাই না। তবে সুযোগ করে আজ আনন্দের সাজে এসেছি। ছোট বোনসহ এসেছি, মেলায় বই কিনবো আর দুজনে ছবি তুলবো।
কথাপ্রকাশ স্টলের ইউনুস বলেন, ছুটির দিনে আজ অনেক মানুষ এসেছে, কিন্তু সেভাবে বিক্রি হয়নি। দর্শনার্থীদের বিশাল একটা অংশ কেবল ঘোরে, ছবি তোলে, আড্ডা দিয়ে মেলায় সময় কাটায়। হাতে বইয়ের প্যাকেট দেখা যায় না।
অন্যদিকে জলধি প্রকাশনার প্রকাশক নাহিদা আশরাফী বলছেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষ আসছেন, বই দেখছেন, ক্যাটালগ সংগ্রহ করছেন এবং নির্বাচিত বই নিচ্ছেন। এবারের মেলা নিয়ে আমরা আশাবাদী।
বারোমাসি প্রকাশনার প্রকাশক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এবার বইমেলায় বিক্রি হচ্ছে আশানুরূপ। তবে আমাদের প্রকাশনার বাংলা একাডেমি পরিচালক কবি নূরুল হুদার কবিতার বই ‘পুণ্য বাংলা’, তপন বাগচীর ‘সংবাদপত্রের ভাষা ও সাময়িকপত্র পর্যালোচনা’ ও সেলিনা হোসেনের ‘অপেক্ষা’ বইগুলো মেলায় বেশি চলছে।
মেলার মাঠে দেখা হলো কবি অরবিন্দ চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি জানান, গতবারের তুলনায় বইমেলার জায়গা ছোট মনে হচ্ছে। স্টলগুলোর বিন্যাস আগত দর্শনার্থীদের জন্য সহায়ক না। এবার মেলা আরও নান্দনিকভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে করা যেতো। শুক্রবার হওয়ায় শিশু প্রহরে সকাল থেকে মেলায় শিশুদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবারের বড়দের হাত ধরে ছুটির দিন ঘুরতে এসেছে আবিদা। শিশুচত্বরে ঘাস ফড়িং প্রকাশনীর স্টল থেকে গল্প ও কমিকসের বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখছে। জানতে চাইলে বলে, আমি বাবার সঙ্গে এসেছি। আজ বাবার অফিস বন্ধ, তাই বাবা আমাকে নিয়ে বইমেলায় ঘুরতে এসেছেন। গল্পের বই কিনেছি দুটি। এখন বাবাকে বলেছি, আরেকটি কমিকস বই কিনবো ।
মেলার শিশুচত্বরে ঘাস ফড়িং প্রকাশনার প্রকাশক শ্যামল কুমার দাস বলেন, প্রথম শুক্রবারের চেয়ে আজ মেলার দ্বিতীয় শুক্রবার অনেক লোকসমাগম হয়েছে। বই বিক্রিও ভালো।









