রাজধানীর রামপুরায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে গুলি করে হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার অনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফয়সল আতিক কাদের বিন কাদেরের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
বিচার শুরু হওয়া আসামিরা হলো– ওয়াসীম আহম্মেদ রতন, শাহরিয়ার আসিফ রাসেল, এনামুল হক পনির, সেলিম ওরফে কালা সেলিম, ইমাম হোসেন শাওন, অর্পন আহাম্মদ জাভেদ, শফিকুল ইসলাম জনি, শাহজালাল, হাবেল, কাজী মাসুদ পারভেজ, আল আমিন, হাসান আবদুল বাকী, আবু বক্কর ছিদ্দিক রুবেল, হেমায়েত হোসেন হিমু, রুহুল আমিন, শফিকুল ইসলাম বাদশা, তৌহিদ কাশেম প্রিন্স, দেলোয়ার হোসেন দিলু, মুন্না, হাজী বাবু, এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন তপু, বিপ্লব হোসেন বাদশা, নাসির শেখ সীমান্ত, মামুন ওরফে পাঠা মামুন ও সুজন মাস্টার।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি এএম শাহাদাত আলী এসব তথ্য জানান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের নিজ বাড়ির তৃতীয় তলায় বসে পত্রিকা পড়ছিলেন ফজলুল করিম খান। তার স্ত্রী আফরোজা করিম খান (৪৫) তখন জামাতা ব্যারিস্টার চৌধুরী মকিম উদ্দিন খান জাহান আলীর গুলশানের বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গাড়িচালক নাস্তা খেয়ে দরজা খোলা রেখে বাড়ির নিচে যান। সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে দিকে মুখোশধারী তিন জন বাসায় ঢুকে আফরোজা করিম খানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তাকে পাশের রুমে নিয়ে স্বর্ণালংকার লুট করে আটকে রাখে। কাজের ছেলে আজাদকে পাশের আরেকটি বারান্দায় আটকে রাখা হয়। অপর এক সন্ত্রাসী ফজলুল করিমের রুমে ঢুকে কপালে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
এ ঘটনার পরদিন ৩০ আগস্ট তার মেয়ের জামাতা ব্যারিস্টার চৌধুরী মকিম উদ্দিন খান জাহান আলী রামপুরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
২০১৭ সালে ২৭ জুলাই মামলাটি তদন্ত শেষে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন খিলগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান। বাদীপক্ষে চার্জশিটে নারাজি দাখিল করে। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৮ সালের ২০ মে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ।









