সুপ্রিম কোর্টকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে: বিদায়ী বিচারপতি বোরহান উদ্দিন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০১আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০১

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেছেন, ‘সাংবিধানিক আদালতকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে।’ প্রায় ১৬ বছরের বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিদায় সংবর্ধনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রীতি অনুসারে এদিন দুপুর ১২টায় আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে বিদায়ী বিচারপতিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বিদায়ী সংবর্ধনা দেন।

পরে নিজ বক্তব্যে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক হলেও বিচার বিভাগের দায়িত্ব সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে অনন্য। কারণ আইনসভায় প্রণীত কোনও আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কিনা তা দেখার অধিকার বিচার বিভাগের। পাশাপাশি নির্বাহী বিভাগের কোনও কার্যকলাপ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা তা দেখার ক্ষমতা বিচার বিভাগের এবং এ কারণেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য।

আইনের শাসন সম্পর্কে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, সুশাসন ও আইনের শাসন সমার্থক। সুশাসন তথা আইনের শাসন নিশ্চিত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একইসঙ্গে একথাও অত্যন্ত ঠিক যে বিচারিক স্বাধীনতা অনেকাংশে নিশ্চিত করে বিচারকের অন্তরের স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পালনের জন্য বিচারককে মন ও মননে স্বাধীন হতে হবে এবং এ কারণে বিচারককে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এদেশের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে শিক্ষার আলো পাক, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক, জ্ঞান বিজ্ঞানে আলোকিত মানুষ হোক - এ আমার সারা জীবনের চাওয়া। দেশের সম্পদ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিলে খেটে খাওয়া মানুষ বাঁচার পথ করে নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ অধস্তন আদালত, ১৯৮৮ সালের ১৬ জুন হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০২ সালের ২৭ নভেম্বর আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

২০০৮ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

/বিআই/এফএস/
সম্পর্কিত
সুপ্রিম কোর্টের একটি ভবন থেকে হাইকোর্ট-কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার
কেমন চলছে ‘সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন নম্বর’ 
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি কি আদালত অবমাননার শামিল 
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম