যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায় ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর পেরিয়ে গেছে ৮ বছরের বেশি সময়। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। তবে এই ৮ বছরে ৭৮ বার আদালতে তারিখ পিছিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সংস্থাটি।
গত ২ জুন সিআইডি সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেছেন, দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এত বছর ধরে কেন বা কোন সমস্যার কারণে তদন্ত শেষ করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ গত ৬ মে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ফলে আবার সময় বাড়িয়ে আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
কেন প্রতিবেদন জমা পড়ছে না কারণ জানতে চাইলে সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্ত সংক্রান্ত কিছু দলিলপত্র বিদেশ থেকে আসার কথা। আর সেগুলোর জন্যই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এবার এ বিষয়টি নিয়ে আর পেছাতে চায় না সিআইডি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তদন্ত সংক্রান্ত কিছু পেপার বিদেশ থেকে আসার কথা। সেগুলো আমরা এখনও হাতে পাইনি। আর এজন্যই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে, বার বার পেছানো হচ্ছে। আমরা এ পেপারগুলো হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। হাতে আসলে দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এতবার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো যুক্তিসঙ্গত কিনা– প্রশ্ন করলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটা রাষ্ট্রপক্ষের কোনও উদ্যোগ না। সিআইডি তদন্ত করছে। তারা তাদের সুবিধামতো তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। এটি কোনও সাধারণ বিষয় না, সেনসিটিভ একটি বিষয়। খুব ভালোভাবে তদন্ত করে নির্ভুল একটি প্রতিবেদন দিতে হবে। চার্জশিট জমা হলে, সেটা দেখেই আমরা ব্যবস্থা নেবো। অবশ্যই আমরা এটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করবো।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায়। আর ৮১ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। ওই অর্থের দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) ডলার ফেরত দেয় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় মামলাটি করা হয়।
তদন্ত শুরুর পরপরই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ২০ বিদেশির সম্পৃক্ততা পায় সিআইডি, যার মধ্যে ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, চীন ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা ছিলেন। এসময় দেশ থেকে তথ্য আদায় করতে না পারায় তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।









