বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, দক্ষতা ছাড়া দেশে-বিদেশে কোথাও মর্যাদা নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিনা খরচে জাপানগামী টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের স্মার্ট কার্ড ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল আলম, বিএমইটি’র মহাপরিচালক সালেহ আহমেদ মোজাফফর, বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ফৌজিয়া শাহনাজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানগামী টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আপনারা দেশের সুদিন ও দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকবেন। বিনা খরচে ও বৈধভাবে জাপানে যাচ্ছেন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবেন। আপনাদের রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য অবশ্যই শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা এককেকজন দেশের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। আপনাদের কাজ, চলাফেরা, ব্যবহারে দেশের সুনাম হবে। খারাপ কাজ করলে নিজের, পরিবার, দেশের দুর্নাম হবে। ভবিষ্যতে যারা বিদেশ যেতে চায় তাদের জন্য আপনারা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবেন। আপনারা তাদের উদ্বুদ্ধ করবেন, যাতে সবাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে বিদেশে যায়।
বিএমইটি’র মহাপরিচালক সালেহ আহমেদ মোজাফফর জানান, যাদের ভাষাগত যোগ্যতা আছে, তারা ইন্টার্ন হিসেবে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় দক্ষতা অর্জন করে। তিন বছরের সফল ইন্টার্ন শেষে জাপানি কোম্পানিতে পাঁচ বছরের জন্য দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবে। এই পাঁচ বছর শেষ হলে সারা জীবন দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, এ প্রোগ্রামের আওতায় বিএমইটির মাধ্যমে ইতোপূর্বে ৫৮৪ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (কর্মী) সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে জাপানে যান। তারা জাপানের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে জাপানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করেছেন। বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর মাধ্যমে এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অবদান রাখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিনা খরচে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) আরও ২৫ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (কর্মী) জাপানে যাচ্ছেন।









