সকাল থেকেই রাজধানীর আবহাওয়া গুমোট হয়ে আছে। দুপুরে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি আবার কোথায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এমন আবহাওয়ার মধ্যেই সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা প্রথা বাতিল বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টার পর থেকে রাজধানীর শাহবাগ ও রায় সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। স্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে চলছে প্রতিবাদী গান ও কবিতা। শিক্ষার্থীদের হাতে শোভা পাচ্ছে জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড-ব্যানার।
শাহবাগ মোড় অবরোধ করার ফলে কাঁটাবন মোড়, মিরপুর ও মতিঝিলগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব সড়কের বাস ও অন্য বাহনগুলো শাহবাগ মোড় এড়িয়ে ভিন্ন পথ ব্যবহার করছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আলাদাভাবে রাস্তা তৈর করে দিতে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়।
অবরোধকালে দলনিরপেক্ষ ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখানে এক ঘণ্টার জন্য আসিনি। আমরা দাবি আদায় করার জন্য এসেছি। দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবো। শিক্ষার্থীরা জেগে উঠেছে। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১ তারিখ থেকে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছি, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিও চলবে। সারা দেশে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।’
এর আগে বেলা ১১টার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে মিছিল ও স্লোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেন তারা। দুপুর ১২টার সময় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। তাদের অবরোধের পর ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন অবরোধ কর্মসূচিতে।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে ১টার দিকে সেখান থেকে রায়সাহেব বাজার অভিমুখে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে যাত্রা শুরু করলে বৃষ্টির বাধায় পড়েন। পরে বৃষ্টিতে ভিজেই তারা রায় সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, ‘বৃষ্টি বা কোনও বৈরী পরিবেশেই আমরা আন্দোলন থেকে পিছপা হবো না। আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক। দাবি আদায় হওয়া না পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা। পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।









