বয়সসীমা লঙ্ঘিত হওয়ায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণিতে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ১১ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুলাই) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল চেয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ভর্তি-ইচ্ছুক দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক একটি রিট দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট বয়সের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে স্কুলেটিতে।
এরপর ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারিসহ ভর্তি বাতিলের আদেশ দেন আদালত। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) নির্দেশনায় ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পরে ভর্তি বাতিলের বৈধতা নিয়ে ১৩৬ জন অভিভাবক আরেকটি রিট দায়ের করেন। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। আলাদা রুল একসঙ্গে শুনানি শেষে গত ২১ মে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
আদালতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম শুনানি করেন। রিট আবেদনকারী দুজন অভিভাবকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামীম সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। রিট আবেদনকারী ১৩৬ জন অভিভাবকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খুররম শাহ মুরাদ।
রায়ে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করে ভর্তিতে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন আদালত। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিলই থাকবে বলে আদেশে বলা হয়। এছাড়াও শূণ্য সিটগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরে স্কুলটির প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে গত ২৬ মে দুটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়। ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ আবেদন করেন।









