পরিবহনের গায়ে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকের কাছ থেকে কোনও ফি নিতে পারবে না বলে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তবে যানবাহনের গায়ে বিজ্ঞাপন সাঁটাতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিককে অবশ্যই বিআরটিএ থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে রবিবার (৭ জুলাই) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম। বিআরটিএ-এর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আইনজীবী রাফিউল ইসলাম।
পরে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন বা কর্তৃত্ব ছাড়া কোনও কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাবে না। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর কোথাও বিজ্ঞাপন ফি’র উল্লেখ না থাকলেও বিধিমালা দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে বিআরটিএ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য গাড়ির মালিকের কাছ থেকে কোনও ফি আদায় করতে পারবে না। তবে বিজ্ঞাপনের জন্য বিআরটিএ থেকে অনুমতি নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৬৮টি গাড়ি আছে। ২০১১ সালে কোম্পানির সূচনা থেকে এসব গাড়িতে নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আসছিল। ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশে কোনও বিধান না থাকলেও ২০২২ সালে প্রণীত বিধিমালায় পরিবহনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য অবৈধভাবে ফি আরোপ করা হয়।
রায়ে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৪৯(ঞ) ধারার সঙ্গে সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ এর ১২২-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এরা ‘মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলি’ সংক্রান্ত ৪৯ ধারার (ঞ) তে বলা আছে, সরকার বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনও মোটরযানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা প্রচার করা যাবে না।
আবার সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২-এর ‘মোটরযানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন’ ১২২ (২) নম্বর বিধিতে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন, কাভার্ড ভ্যানসহ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন মোটরযানে নিজস্ব পণ্যের বিজ্ঞাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বিধিমালার তফসিল-১ এর ৪৫ নম্বর তফসিলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বার্ষিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হালকা ও থ্রি হুইলার মোটরযানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বার্ষিক ফি ৩ হাজার টাকা। আর হালকা ব্যতীত অন্যান্য মোটরযানের জন্য বার্ষিক ফি ৫ হাজার টাকা।
পরে ওই আইন ও বিধির অসামঞ্জস্যতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছর শুরুর দিকে হাইকোর্টে রিটটি করেন কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহিন শাহপার হাসান।
রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এরা ‘মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলি’ সংক্রান্ত ৪৯ ধারার (ঞ)-এর সঙ্গে বিধিমালা ১২২ ও তফসিল-১ এর ৪৫ নম্বর তফসিল কেন অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না এবং একইসঙ্গে ১২২ ও ৪৫ নম্বর তফসিল সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়। এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্ট বার্ষিক ফি নির্ধারণ সংক্রান্ত ৪৫ নম্বর তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন।
পরে বিআরটিএ’র আবেদনে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্টকে দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করণে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে জানিয়েছেন বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম।









