ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয় ১১ বছর আগে আজকের এই দিনে। রাজধানীর গুলশান-১ এ শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণিবিতানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরের দিন মিল্কির ছোট ভাই মেজর রাশেদুল হক খান মিল্কি বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের ১১ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয় বিচারকাজ। কবে নাগাদ বিচার শেষ হতে পারে, তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
হত্যার আড়াই বছর পর দ্বিতীয় দফায় ১৮ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে আইনের কিছু জটিলতা থাকার কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ হচ্ছে ধীর গতিতে। গত সাত বছরে মালাটিতে ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাত জন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত দায়রা জজ ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর মামলাটিতে ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দেন মাত্র চার জন। এমন অবস্থায় ২০২২ সালের ২১ মার্চ মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন আইন মন্ত্রণালয়। পরে গত দুই বছরে তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে।
মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রসিকিউটর সাদিয়া আফরিন শিল্পী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটির বিচার শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আদালত থেকে সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে সমন পাঠানো হয়। সাক্ষী আসে না। তারপরও আমরা সাক্ষীদের আদালতে হাজিরের চেষ্টা করছি। কয়েকজন এসে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আশা করছি, সাক্ষীরা এলে, চলতি বছরে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করতে পারবো। সাক্ষীরা নিয়মিত আদালতে হাজির হলে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হবে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে।’
এদিকে আসামি জাহাঙ্গীরের আইনজীবী নূর ইসলাম খান বলেন, ‘আসামি সাখাওয়াতের ড্রাইভার ছিলেন জাহাঙ্গীর। আর এটাই তার দোষ। সে গরিব মানুষ। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। সে কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আশা করছি, এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে হলে সে খালাস পাবে।’
অন্যান্য আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সাক্ষীরা ঠিকমত না আসায় মামলাটি বুঝে গেছে। আমরাও চাই, মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হোক। প্রকৃতি অপরাধীর সাজা হোক, আর নিরপরাধ ব্যক্তিরা মুক্তি পাক। ১৮ জন তো আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। হয়তো তিন-চার জন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে আসামিদের জড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো, এই মামলায় থেকে আসামিরা যেন খালাস পায়।
এদিকে মামলার বাদী মিল্কির ছোট ভাই রাশেদুল হক খানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশান-১ এ শপার্স ওয়ার্ল্ড বিপণিবিতানের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় বিপণিবিতানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে মিল্কির এক সময়ের সহযোগী যুবলীগের আরেক নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেকসহ ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানান। ওই ঘটনার পরের দিন মিল্কির ছোট ভাই মেজর রাশেদুল হক খান মিল্কি বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলাটির এজাহারনামীয় ১১ জন এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচ জনকে কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে প্রথমে ১১ জনকে এবং পরে আবার সাত জনকে অভিযুক্ত করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৮ আসামি হলো– মো. সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, ফাহিমা ইসলাম লোপা, শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু, সৈয়দ মুজতবা আলী প্রকাশ রুমী, আমিনুল ইসলাম ওরফে হাবিব, সোহেল মাহমুদ ওরফে সোহেল ভূঁইয়া, চুন্নু মিয়া, আরিফ ওরফে আরিফ হোসেন, সাহিদুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তুহিন রহমান ফাহিম, মোহাম্মদ রাশেদ মাহমুদ ওরফে আলী হোসেন রাশেদ ওরফে মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম ওরফে নুরুজ্জামান, সুজন হাওলাদার, ডা. দেওয়ান মো. ফরিউদ্দৌলা ওরফে পাপ্পু ও মামুন উর রশীদ। প্রথম চার জন পলাতক। এছাড়া অন্য ১৪ আসামি জামিনে রয়েছে।









