এবার কি ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে জামায়াতের বিচার হবে?

উদিসা ইসলাম
০১ আগস্ট ২০২৪, ২০:১৫আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ২০:১৫

মুক্তিযুদ্ধকালে দল হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১০ বছর আগে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হলেও অভিযোগ গঠন হয়নি। আইনে কিছু সংশোধন প্রয়োজন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ সেই জায়গাতেই থমকে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি হলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে— এবার কি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার শুরু হবে?

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াত ও শিবিরকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে দায়ী করা এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিলে আপিল বিভাগের রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার দলকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে। পাশাপাশি গোলাম আযমকে যুদ্ধাপরাধীদের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় দল হিসেবে জামায়াতের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। কেবল এই রায়ে নয়, ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দল হিসেবে জামায়াতের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত দুটি রায়ে জামায়াতকে ‘ক্রিমিনাল’ দল হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট উচ্চ আদালত এক রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে।

পরে ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত লিভ টু আপিল আপিল করলে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার হারায়। তবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

সেই দাবি এত বছর পরে পূরণ হওয়াটাকে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বড় বিজয় উল্লেখ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। তবে তিনি মনে করেন, জামাত নিষিদ্ধ করলে সন্ত্রাস নির্মূল হবে মনে করার কারণ নেই। তাদের যে সাংগাঠনিক নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য— এগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। জামায়াতের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট হয়। তাদের এনজিও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আছে— এগুলোও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তা আনতে না পারলে মৌলবাদের সন্ত্রাস নির্মূল করা যাবে না। মনে রাখতে হবে জামায়াত কেবল একটি দল না— আদর্শ, মওদুদীবাদ। যারা কিনা ধর্মের নামে তাদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়। ঠিক যেভাবে একাত্তরের গণহত্যা, নারী ধর্ষণকে ধর্মের নামে বৈধতা দিয়েছিল। ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে অন্য নামে তারা হাজির হবে।

‘ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন’ হিসেবে এবার জামায়াতের বিচার শুরু হবে কিনা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপস বল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে ভূমিকা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সবাই  জানে— জামায়াত একটি ‘ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন’। তাদের রাজনীতি করার কোনও অধিকার থাকতে পারে না। প্রজ্ঞাপনকে সাধুবাদ জানাই, প্রথম স্টেপ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই আশা দরকার ছিল। একাত্তরে তাদের যে ভূমিকা সেটার জন্য তাদেরকে ট্রায়ালে নেওয়ার দরকার আছে, সংগঠন হিসেবে। একইসঙ্গে তাদের অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান টিকে আছে, আদর্শের মূল জায়গা টার্গেট করতে হলে সংসদে আইন পাস করা প্রয়োজন।’

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধের পর আদালত ছাড়া অপরাধী হিসেবে দলটিকে সরকার শাস্তি দিতে পারে কিনা, প্রশ্নে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দফতরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘যে আইনের কথা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, সেখানেও আমরা সংশোধনের ব্যবস্থা করেছি। নিষিদ্ধ করার পরেও তাদের সাজা দেওয়া যাবে না এমনটি না। তবে, নিষিদ্ধ যেহেতু হয়ে গেছে, সেহেতু নিষিদ্ধ করার বিষয়টি সাজার মধ্যে আসবে না।’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার শুরুর পর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে অপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। পরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়— বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান নেই। এরপর  আজও ওই রিপোর্টটি চার্জ গঠনের জন্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়নি।

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না: শফিকুর রহমান
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জামায়াতের, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম