ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বাড়ির ভাড়াটিয়াদের মারধরের অভিযোগ করেছেন জামাল মিয়া। পরে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে সেনাবাহিনী।
শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জামাল হোসেন সদর উপজেলার উত্তর সুহিলপুর গ্রামের হাজী আব্দুল হাফিজের বড় ছেলে এবং শহরের মসজিদ রোডের তন্নী অফসেট প্রেসের স্বত্বাধিকারী। অভিযুক্তরা হলেন– হেলাল মিয়া (৪২), মো. তাজুল ইসলাম (৫০), সাহেদ মিয়া (২৫), নাছির মিয়া (২৮), আশাদ মিয়া (৩০), ফজু মিয়া (৫৫)। তারা সবাই একই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা সালিশকারী মাতবর জালাল মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৬ বছর আগে এ জমিটি চাঁন মিয়ার কাছ থেকে কিনে নেন একই এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়া। জামাল মিয়ার কাছে জমির সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। আমরা বহুবার অভিযুক্তদের বুঝানোর চেষ্টা করছি, তারপরও তারা মানতে চাই না। ভয়-ভীতি দেখিয়ে জামাল মিয়ার সঙ্গে তারা অন্যায় করছে।’
বাড়িটির ভাড়াটিয়া নির্যাতন ও মারধরের শিকার বাদশা মিয়া বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট রাতে বলপ্রয়োগ করে আমাদের ঘর থেকে বের করে দেয় অভিযুক্তরা। পরের দিন তারা চারটি ঘর ভাঙচুর করে। ওই জায়গায় ঘর তোলারও চেষ্টা করে তারা।’
জামাল হোসেন বলেন, ‘এতদিন তারা কোনোকিছু করার সাহস পায়নি। দেশের এই পরিস্থিতিতে অবর্তমানে তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পুরো ঘটনা শুনে সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে গেছেন।’
জামাল মিয়ার পরিবারের লোকজন ও এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে জামাল হোসেন চাঁন মিয়ার কাছ থেকে ১৮ শতাংশ বাড়ির জায়গা কেনেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গার চৌহদ্দি ঠিক আছে। তবে দলিলে ভুল দাগ নম্বরে বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি হয়। ২০২৩ সালে বিষয়টি সামনে এলে সংশোধনীর জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয় আদালতে। বিষয়টি জানার পর থেকেই চাঁন মিয়ার ছয় ছেলে জায়গাটি দখলে নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন জামাল হোসেন। তার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেয় আদালত।
এদিকে এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মীমাংসাকারী সেনাবাহিনীর ৩৩ বীরের ওয়ারেন্ট অফিসার দিদারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে ভাঙা ঘরগুলো মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেন। না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে যেন নতুন করে কোনও সংঘাত সৃষ্টি না হয় এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন।









