বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও আমরা সমতলের আদিবাসীরা উন্নয়নসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এখন যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে সেখানে আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি যাতে দেখা হয়।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে সমতলের আদিবাসী ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ‘কালচারাল শোডাউন’ করা হয়।
অলিক মৃ বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আমাদের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। আমরা সমতলের আদিবাসীরা সব সময় বঞ্চিত, অবহেলিত। আমাদের প্রতিনিধি রাখা দরকার। এখনও সময় আছে, যেহেতু আজকে চারজন উপদেষ্টা শপথ নেবেন। সুতরাং আমরা মনে করি, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে সমতল থেকে একজন প্রতিনিধি যেন রাখা হয়। এসময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আদিবাসীদের সঙ্গে সংলাপ, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান।
দীর্ঘদিন ধরে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি করে আসছে উল্লেখ করে অলিক আরও বলেন, আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম ভূমি সমস্যা। কিন্তু বিগত সরকারের কেউ আমাদের কথা দিয়ে কথা রাখেনি। আমাদের বিশ্বাস ও আশ্বাস রয়েছে, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অনেকে আদিবাসীবান্ধব। আমরা মনে করি, তারা আমাদের কথা রাখবেন।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি অলিউর সান বলেন, আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র কায়েম করেছি। সকল মানুষের জন্য এটি বহু জাতির হিসেবে গঠন করতে পারিনি। আমাদের সামনে এখন সুযোগ এসেছে এই রাষ্ট্রকে নতুন করে গঠন করবার। সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে প্রতিটি নীতিতে আদিবাসীদের প্রাধান্য দিতে হবে।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, আদিবাসী ফোরামের ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম প্রমুখ। এসময় আগামী শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক সমাজ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের নিয়ে সংহতি সমাবেশের আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।









