বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠক করে। এই বৈঠকে `যে কোনও মূল্যে‘ আন্দোলন দমাতে হাসিনাকে কারফিউ জারির পরামর্শ দেন মেননসহ জোটের অন্য নেতারা।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হায়দারের আদালতে রাজধানীর নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও আরিফ আহমেদের রিমান্ড শুনানিতে এমন দাবি করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
এদিন আদালতে শুনানি করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোরাদ হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করে। বিএনপিপন্থি আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকীও ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মেনন সাহেব ছাত্র জীবন থেকে বাম রাজনীতি করেছেন। জনগণকে নীতিবাক্য শুনিয়েছেন, সমতা-অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছেন; এসব বাণী নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এক সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সাথে যোগ দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের মধ্যে ১৪ দল গণভবনে মিটিং করে। যেকোনও মূল্যে আন্দোলন দমাতে হাসিনাকে কারফিউ জারির পরামর্শ দেন। জাতি আজ তার বিচারকার্য দান করেছে। হাসিনাকে তারা স্বৈরাচার করতে সাহায্য করেছে। আন্দোলন দমাতে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। তারা ১০ দিনের রিমান্ড সমর্থন করে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটা নৈতিক আন্দোলন। তারা সেটা সমর্থন করেনি। স্বৈরাচারকে সমর্থন করেছে। তারা ভুলে গিয়েছিল সব সময় স্বৈরাচার থাকে না। পৃথিবীতে কোনও স্বৈরাচারই টিকে না। আজ রাশেদ খান মেনন যেভাবে এসেছেন প্রাপ্ত পুরস্কার পেয়েছেন।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। মেননের পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, তিনি বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ। আত্মত্যাগের রাজনীতি করেছেন। রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।
আরিফ আহমেদের আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক দলের না, সাধারণ মানুষ। এসময় আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন।
তখন আদালত বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরেন। আপনাদের প্রতি আমার আস্থা আছে, আমার ওপরও আস্থা রাখেন। যেহেতু তিনি বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ। প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো।
গত ২২ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে গত ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক মামলা দায়ের করেন।









