রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনার প্রত্যয় এবং দেশকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও টেকসই উন্নয়নের পথে পরিচালিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০টি সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন ফোরাম’।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই ফোরামের আত্মপ্রকাশ করা হয়।
আত্মপ্রকাশ করা নতুন এই ফোরামের আহ্বায়ক করা হয় ল অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ড. মুহাম্মাদ হায়দার আলীকে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ সফিউল আলম ও প্রটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাড. মহিউদ্দিন জুয়েলকে।
ফোরামের অন্য সংগঠনের মধ্যে রয়েছে, ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার পেসিফিক অ্যাসোসিয়েশন, বিবি আসিয়া ফাউন্ডেশন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ল ইয়ার্স সোসাইটি, আইনি সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ওমেন অ্যান্ড চিল্ড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, রিভিউ আর্থ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, ডেভেলপমেন্ট ফর ডিজেবল চিলড্রেন অ্যান্ড ওমেন, আইনজীবী সুরক্ষা আন্দোলন, লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন লাইফ, করাপশন অ্যান্ড পেট্রোয়েটিক সোসাইটি, সেভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যাকশন ইউনিট, জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন, রাগিব দিয়ান ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের আহ্বায়ক ড. মুহাম্মাদ হায়দার আলী বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা আমাদের দেশের সুশাসন ও উন্নয়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই আমরা আজ রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন ফোরাম-এর আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করছি। রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন ফোরাম-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো— আমাদের প্রিয় দেশকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও টেকসই উন্নয়নের পথে পরিচালিত করা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের সব স্তরের সমন্বিত ও কার্যকর সংস্কার আনার মাধ্যমে একটি সুষম, ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় রাষ্ট্রকে টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, শিক্ষার নিম্নমান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা প্রতিনিয়ত জনগণের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ও নাগরিক সমাজের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই নীতিগত সংস্কারের দাবি উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে, অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, যা রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকরিতাকে হ্রাস করছে।’
এসময় ফোরামে লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিসরে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার এনে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন করা এবং সমগ্র জাতিকে একত্রিত করে একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল প্রতিষ্ঠা করাই কমিটির লক্ষ্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা; অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস ও উন্নয়ন বৃদ্ধি মাধ্যমে দারিদ্র মুক্ত দেশ গঠন; গুণগত মানের শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন; প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ডিজিটালাইজেশন; সামাজিক ন্যয়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা; পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুনিশ্চিত করা; পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিকায়ন ও টেকসই নগরায়ন প্রতিষ্ঠা; খাদ্যঘাটতি রোধে কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন সাধন করা; মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখে লাইফের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল আহসান রিয়েল, রিভিউ আর্থ হিউমেন রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ল’ ইয়ার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।









