রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় কারাগারে থাকা ১৫ আনসার সদস্যকে শাহবাগ থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর আদালত এই আদেশ দেন।
সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভের ঘটনার মামলায় কারাগারে থাকা ৯৪ জন আনসার সদস্যকে মঙ্গলবার শাহবাগ থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শাহবাগ থানা-পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে আটক অপর আসামিদেরও গ্রেফতার দেখানো হবে।
আজ গ্রেফতার দেখানো ১৫ আনসার সদস্য হলেন– মো. হারুন (৪০), মো. দুলাল হোসেন (৪০), মো. শফিকুল ইসলাম (৪২), মো. হামিদুর রহমান (৩০), সাগর সরকার (২৪), মো. মশিদুল ইসলাম (২৯), শাহ আলম (৩৬), মো. মমিনুল ইসলাম (৩২), শ্রী সন্তোষ কুমার (৩৮), মো. মিলন আলম (২৮), মো. আবু রায়হান (২৪), সোহেল মৃধা (২৩), শ্রী দীপক পাশী (২৫), মো. সোহানুর রহমান (২৩) ও মেহেদুল ইসলাম (৩৮)
গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, আসামিরা গত ২৫ আগস্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বাহিনীর শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে অন্যকে প্ররোচনা দেওয়া, অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলন, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত/কর্মস্থল ত্যাগ/কর্মবিরতি ও হুমকি দেন। বাহিনীর ইউনিফর্মের অপব্যবহার ও অবমাননা, বৈধ আদেশ পালনে অনীহা প্রকাশ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ শৃঙ্খলা বহির্ভূত কার্যক্রম করতে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, স্মার্টকার্ডধারী সাধারণ আনসার সদস্যরা সচিবালয়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বেআইনিভাবে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সচিবালয়ের চারপাশে অবস্থান করে তারা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সচিবালয়ে অবস্থানরত অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সচিবালয়ের বাইরে জরুরি রাষ্ট্রীয় কাজে বের হতে বাধা দেয়। এছাড়াও ওই স্মার্টকার্ডধারী সাধারণ আনসার সদস্যরা রাস্তার ওপর আগুন ধরিয়ে দেন, তাদের ইউনিফর্ম পুড়ে ফেলে এবং চলাচলরত বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। সাধারণ আনসার সদস্যদের দাবি-দাওয়া নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া হলে তাদের পক্ষ থেকে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এরপরও তারা সচিবালয় অবরোধ বহাল রেখে হত্যার হুমকিতে স্লোগান দিতে থাকে।
আরও বলা হয়, সচিবালয়ের অভ্যন্তরে উপদেষ্টারাসহ সচিবালয়ে অবস্থানরত অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দাবি আদায়ের নামে চাপ দিতে থাকে আনসার সদস্যরা। সচিবালয় অবরুদ্ধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন্ধনমূলক পোস্ট দিয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামার প্রস্তুতি নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সচিবালয়ের চারপাশে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা জড়ো হলে আন্দোলনরত আনসার সদস্যরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাশের মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার উসকানি দিতে অভিযুক্ত আনসার সদস্যরা উপস্থিত আনসার সদস্যদের উত্তেজিত করে তোলে। এই আক্রমণে ছাত্রজনতার অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসামিরা ওই ঘটনার সমন্বয়ক কমিটির সদস্য। মামলাটির সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে বর্ণিত মামলাগুলো থেকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।









