খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ জানিয়েছে। একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইউশা রহমান জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর দোকান, বাড়িঘরে আগুন ও পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের ঘটনা অনভিপ্রেত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙ্গামাটিতে সংঘাত ছড়িয়ে যাওয়ার যে খবর পাওয়া গেছে, তা আরও উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় হতাহতের খবরসহ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপ্রীতিকর এ পরিস্থিতি দ্রুততার সঙ্গে স্বাভাবিক করার জোরালো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন বলে কমিশন মনে করে। এ ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করেছে।
সুয়োমটোতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে লারমা স্কয়ার এলাকায় এই সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দোকান ও ঘরবাড়ি আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি শহরের নোয়াপাড়া এলাকায় বুধবার ভোরে মোহাম্মদ মামুন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সূত্র ধরে ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে দীঘিনালায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাঙালিরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ৫টার দিকে ৩০০ থেকে ৪০০ বাঙালি জামতলি ও বোয়ালখালী বাজারের দিক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা লারমা স্কয়ারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পাহাড়িরা বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে লারমা স্কয়ার ও দীঘিনালা কলেজের পাশের প্রায় ৩৭টি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ও বাঙালি সংঘাতের রেশ পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটিতেও ছড়িয়ে পড়ে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।
সংঘর্ষ-সহিংসতায় পার্বত্য দুই জেলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকার শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ গ্রহণসহ ঘটনার পেছনে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে বলা হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।








