দুর্গাপূজা উদযাপনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার দাবি ৪০ বিশিষ্ট নাগরিকের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০০:১৮আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০০:৫৩

আসন্ন দুর্গাপূজা বাধামুক্ত ও নিরাপদে উদযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং দুর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে যে মহলটি বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং উদ্দেশ্যমূলক শর্তারোপের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের ৪০ জন নাগরিক ও অধিকার কর্মী। শনিবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সরকারি হিসেবে এবছর বাংলাদেশে ৩২ হাজার ৪৬০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা পালিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ সকল ধর্মমতের মানুষকে নিয়ে সহিষ্ণুতা ও শান্তির সঙ্গে বাস করতে আগ্রহী। এখানে প্রতিটি ধর্মের উৎসব স্বাধীন ও নিরাপদে নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী পালনের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে এবং সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে তা পালিত হবার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সকল ধর্মের সকল উৎসব পালনে নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কিন্তু আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বিগত কয়েক দশক ধরেই পূজার সময় এলেই একটি মহল ধর্মভিত্তিক উত্তেজনা ছড়িয়ে এবং নানা ধরণের নাশকতার চেষ্টার মাধ্যমে পরিবেশকে অশান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে না।

এতে আরও বলা হয়, ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর চালানোর উদাহরণ আমরা অতীতে দেখেছি। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ধর্ম বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার, ফেসবুকে নানা ধরণের সাজানো গল্প ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আমরা প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার তথ্যও পেয়েছি। সেই সঙ্গে একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিদ্বেষীমহল বেআইনি এবং নৈতিকতা বিরোধীভাবে পূজার সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কী করতে পারবেন কী পারবেন না তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গর্হিত অপরাধ। আইন শৃঙ্খলার অনিবার্য প্রয়োজনে কী করা যাবে বা যাবে না তা বলার এখতিয়ার সরকারের, অন্য কারও নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন, দুর্গাপূজার সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা বহাল থাকবে। সেই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন অনাকাঙ্খিত কোনও ঘটনা ঘটার আগেই তারা যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে তার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। সেই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, যারা এ সকল উত্তেজনা তৈরি করছে কিংবা কোনও সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আগেভাগেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এ সকল ঘটনার পেছনে যারা আছে তাদেরকে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা নাহলে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যকে বিঘ্নিত করার এই সকল অপপ্রয়াস জনগণ কোনও অবস্থায়ই মেনে নেবে না। সে জন্যই সরকার ও প্রশাসনের উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলমত ও ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল স্তরের নাগরিক ও ছাত্র-জনতাকে আমরা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলারও উদাত্ত আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবীর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, ব্লাস্ট’র অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা,  অধ্যাপক জোবায়দা নাসরিন, সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিম সুলতানা, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. তবারক হোসেন, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ,  নৃবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী নাসরিন খন্দকার, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সাংবাদিক সাঈদা গুলরুখ, বিএনডব্লিউএলএ নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. সালমা আলী, অ্যাড. মিনহাজুল হক চৌধুরী, গবেষক ও অধিকার কর্মী রোজিনা বেগম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স’র ভিজিটিং প্রফেসর ড. স্বপন আদনান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোভা আহমেদসহ আরও ৮ মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা।

/এসও/এমএস/
সম্পর্কিত
আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জামায়াতের প্রতিবাদ
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর: জামায়াত
নাসীরুদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা 
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম