যে আইন কাঠামো ও এক তরফা বিচার ব্যবস্থার প্রয়োগে শত শত সশস্ত্র সেনা সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেই বিচারব্যবস্থার সংস্করণসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ‘সহযোদ্ধা’ কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যদের পক্ষে তাদের প্রধান সমন্বয়ক নাইমুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকার স্বৈরশাসন ব্যবস্থা কায়েম রাখতে সামরিক বাহিনীর কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে সামরিক বাহিনীতে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার ও এক তরফা বিচার ব্যবস্থার প্রয়োগে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শত শত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের চাকরিচ্যুত ও বঞ্চিত করেছে প্রাপ্য পেনশন থেকে, এমনকি জোরপূর্বক ইউনিট কোয়ার্টার গার্ড ও তথাকথিত আয়না ঘরে বন্দি করে অমানবিক নির্যাতন করেছে।
সেনাবাহিনীর ব্রিটিশ সামরিক আইন সংস্কার করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে এখনও ব্রিটিশ সামরিক আইন বলবৎ রয়েছে, যা যুক্তিহীন। এই আইনের ধারায় নানা সময়ে সেনা সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়। যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানসহ বিভিন্ন খাত সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেখানে সেনাবাহিনীর এই ব্রিটিশ সামরিক আইনও সংস্কার করা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেনা সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পরিবারে বা আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সামান্য ভুল পেলেই তাকে ইস্যু করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
তিনি আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈষম্য হলো, যেখানে নৌ ও বিমান বাহিনীর একজন সদস্য তার সিনিয়রকে স্যার বলে সম্বোধন করে সেখানে সেনা বাহিনীতে শুধুমাত্র কমিশন্ড ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার ব্যাতীত অন্য সিনিয়রদের 'ষ্টাফ ও ওস্তাদ' বলে সম্বোধন করে থাকে। সেনাবাহিনীর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ও সুনামধন্য বাহিনীতে এই ধরনের শব্দচয়ন অত্যন্ত বেমানান। আমরা এই বৈষম্যেরও নিরসন চাই।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে থেকে তারা তাদের ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—
চাকরিচ্যুত সময় থেকে অদ্যাবধি সম্পূর্ণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ চাকরি পুনর্বহাল করতে হবে। যদি সশস্ত্র বাহিনীর কোনও সদস্যের চাকরি পূর্ণ বহাল করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওইসব সদস্যের সরকারি সব সুযোগসুবিধাসহ সম্পূর্ণ পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে। যে আইন কাঠামো ও এক তরফা বিচার ব্যাবস্থার প্রয়োগে শত শত সশস্ত্র সেনাসদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেই বিচার ব্যাবস্থার সংস্করণ করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন— চাকরিচ্যুত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান, নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সমন্বয়ক মো. আব্দুল হাকিম, বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে সমন্বয়ক মো. কোরবান আলী, নৌবাহিনীর সদস্য রিয়াজুল করিম মজুমদার, বিমান বাহিনী সার্জেন্ট রেজা, সেনা সদস্য আল আমিন, সেনাসদস্য সার্জেন্ট বাশার, বিমানবাহিনীর সদস্য তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় সংবাদ সম্মেলনে প্রায় দুই শতাধিক চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।









