আইনজীবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবীরা। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, ওই বিচারপতি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তার কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল ও প্রধান বিচারপতির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ৭ নম্বর বেঞ্চ (মূল ভবন) ভ্যাকেশন এখতিয়ারাধীন মামলার শুনানি করে আসছে। তবে শুরু থেকেই মামলার কার্যতালিকা তৈরি ও শুনানিতে ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে আইনজীবীর মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়গুলো নিরসনের জন্য আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করার পরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে মামলার মেনশনের সময় আইনজীবীরা ও আইনজীবীদের পক্ষে ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচরে আনেন। তিনি আদালতকে সম্মানের সঙ্গে শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, মাননীয় আদালত, আপনার আদালতের বেঞ্চ অফিসাররা অনিয়ম করে সব জমা করা মামলা ঠিকমতো দৈনিক কার্যতালিকায় দেয়নি। এতে অসংখ্য আইনজীবী বঞ্চিত হয়েছেন।
এর উত্তরে বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান আইনজীবীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হাত উঁচিয়ে বলেন, “আমি বারের নেতা ছিলাম। তোমাকে কে সাহস দিয়েছে আমার আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলতে। আমার এজলাস থেকে বের হও- বেয়াদব, তোকে থাপ্পড় দিয়ে পুলিশে দিবো।”
তখন আদালতে অবস্থানরত আইনজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ করলে বেঞ্চের দুই বিচারপতি (বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি কেএম হাফিজুর আলম) এজলাস ত্যাগ করেন।
পরে ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই বেঞ্চের প্রিজাইডিং বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বেঞ্চ অফিসারদের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যা ওই বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কর্তৃক পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল ও প্রধান বিচারপতির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। আজ ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১-২২ নম্বর আইটেম ইতোপূর্বে একই বেঞ্চ থেকে কার্যতালিকায় থাকা অবস্থায় শুনানির সময় ফেরত দিলেও আজ আবার অজ্ঞাত কারণে কার্যতালিকায় আসে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান আইনজীবীদের সঙ্গে অপেশাদারসুলভ আচরণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আজকের ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং আদালত বর্জন করি। তখন বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
তবে সেসময়ে আদালতে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কার্যতালিকায় থাকা ১ থেকে ২২ নম্বর মামলা পূর্বের মুলতবি আইটেম ছিল। কিন্তু ব্যারিস্টার আশরাফ বলেন, আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে জুলাই-আগস্টের কোনও মামলার শুনানি হবে না। এর একপর্যায়ে কোর্টের বেঞ্চ অফিসার এবং বিচারপতিকে উদ্দেশ করে ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, ঘুষ ছাড়া এ কোর্টে মামলার শুনানি হয় না বলে আদালতের সঙ্গে তর্কে জড়ান আশরাফ। তখন আদালত বলেন, যে সমস্ত মামলা আসেনি তা কালকে লিস্টে আসবে। এসময় আদালতকে তুই সম্বোধন করা হয় এবং বিওদের (বেঞ্চ অফিসার) উদ্দেশে প্রতিবাদকারী আইনজীবীরা গালিগালাজ করতে থাকেন। অবস্থা শান্ত করতে গেলে সজিব নামে এক আইনজীবীকে লাথি মারা হয়।
এদিকে সবশেষ তথ্যমতে, এরইমধ্যে হাইকোর্ট বেঞ্চটি ভেঙে নতুন করে বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি কে এম হাফিজুর আলম ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে নতুন বেঞ্চ গঠিত হয়েছে।









