ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় কবি নজরুল সরকারি কলেজে আনন্দ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে কলেজের মূল ফটকের সামনে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘একটা একটা ছাত্রলীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘একটা একটা ছাত্রলীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগ পদে পদে মানুষকে নির্যাতন করেছে। অনেককে এমন অমানবিক নির্যাতন করেছে যে তারা মরেই গেছে। বুয়েটের আবরারের মতো মেধাবী ছাত্র ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পায় নাই। এমনকি জুলাই মাসে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেখানে ছাত্রলীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কবি নজরুল কলেজ শাখার সহ-সমন্বয়ক সালমান বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নৌকা মার্কায় ভোট না দেওয়ার কারণে এক গৃহবধূকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ করেছে, সিলেট এমসি কলেজে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে।
সনাতন ধর্মের বিশ্বজিৎকে শিবির ট্যাগ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে, ২০১৯ সালে বুয়েটে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। একটা সংগঠনকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করতে এতটুকু প্রমাণই যথেষ্ট। ছাত্রলীগ কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করায়। অনতিবিলম্বে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। যাতে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে।
হাসান মুজাহিদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হাতে অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছে। এমনকি ৬-৭ জন সাংবাদিকও মারধরের শিকার হয়েছেন। কেউই ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের থেকে রেহাই পায়নি। জুলাই মাসে যে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে সেখানে কবি নজরুল কলেজের চার শিক্ষার্থীকে হত্যার সঙ্গেও যুক্ত ছাত্রলীগ।









