সামনে ভালো দিন আসবে, আদালতে সাবেক মন্ত্রী কামরুল 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৮আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৮

‘সব দিন তো একরকম যায় না। এই দিনই দিন না। সামনে ভাল দিন আসবে’—  মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) নিউমার্কেট থানার রিমান্ড শুনানিতে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এসময় কামরুল ইসলাম আরও বলেন, আমার এলাকা কেরানীগঞ্জ। নিউমার্কেট এলাকা আমার অধীনে না। আমি নিজে ওই এলাকার এমপিও না। এ মামলায় আমাকে ৫৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমার নামটি হয়তো শেষ মুহূর্তে ভুলে এজাহারে লিখে দেওয়া হয়েছে। আমি ঢাকা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বারের আজীবন সদস্য। আমি তো কোনও অন্যায় করিনি। সরকারের কোনও দায়িত্বেও ছিলাম না।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক বলেন, উনি তো সব হত্যাকণ্ডে জড়িত। শেখ হাসিনার সঙ্গে মিটিংয়ে থেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

একথা শুনে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিন তো একরকম যায় না। এই দিন, দিন না। সামনে ভাল দিন আসবে।’ এমন কথা শোনার পর রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিত আইনজীবীরা ক্ষেপে যান। পরে পরিবেশ শান্ত হলে আদালত তাকে ৮ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিন সকাল ৯টার দিকে গ্রেফতার কামরুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। 

এরপর পুলিশের চাওয়া ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। 

রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম অত্যন্ত প্রভাব-প্রতিপত্তির সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কোনও অপর্কম নাই যা তিনি করেন নাই। অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, দুর্নীতিসহ বিরোধী দলমত দমনে তিনি অগ্রনী ও আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, কামরুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের ভোট ডাকাতির মাধ্যমে চার বারের এমপি, একবার ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও একবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ আসামি অত্যন্ত ভয়ানক চরিত্রের অধিকারী। যা তার আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গী ও কথাবার্তার মাধ্যমে প্রকাশ হতো। তার ভয়ে তার সংসদীয় এলাকাসহ বিভিন্ন মানুষ স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ করতে পারতেন না।

তিনি আইন প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু নিরাপরাধ মানুষকে জেল জুলুমের মাধ্যমে নির্যাতিত করেছেন বলেও আবেদনে অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম কলংকিত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বহু অপকর্মের ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে দেশে ও বিদেশে জনশ্রুতি আছে। তার গ্রেফতারে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তি-উল্লাস ফিরে এসেছে।

কামরুল ইসলামসহ মামলার অন্যান্য আসামিদের নির্দেশে গত ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় মাহফুজুর রহমান, নাসির উদ্দিন, শামীম উসমান, মো. আবু মূসা, মাঈনুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, আবির হোসেনসহ অনেক নিরস্ত্র ছাত্র জনতা ও সাধারণ পথচারী আহত ও চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন এবং আব্দুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলেও উল্লেখ করা হয় রিমান্ড আবেদনে। এতে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এ আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে তার বিভিন্ন চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তার বিরুদ্ধে তদন্তকার্য অব্যাহত আছে। তিনি অতিগুরুত্বপূর্ণ একজন দলীয় পলিসি বা ডিসিশন মেকার ছিলেন। ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সহচর বলে দেশে বিদেশে বিশেষভাবে জনশ্রুতি আছে। তাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হবে।

এসব কথার সমর্থন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, কামরুল ইসলাম থাকেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে। অথচ ঘটনা দেখানো হলো নিউমার্কেট এলাকায়। এটা তো ওনার এলাকার মধ্যেই পড়ে না। কীভাবে এ মামলায় তার নামে আসে। আসামি একজন আইনজীবী। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওনাকে এ মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে। এছাড়া ওনার বয়স ৭৬ বছর। বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। রিমান্ড দেওয়া হলে ওনার জীবনহানির আশঙ্কা আছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিন চাইছি।

আদালত উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

/এনএইচ/ইউএস/
সম্পর্কিত
হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান কারাগারে
মোহাম্মদপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই: দুই আসামি রিমান্ডে
মিরপুরের সেই বৃদ্ধার সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তদন্ত চেয়ে রিট
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম