রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ ৭ জনের মধ্যে মোহাম্মদ (১০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরআগে একই ঘটনায় দগ্ধ নিহত মোহাম্মদের বাবা-মাও মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান। মোহাম্মদ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ ছিল দ্বিতীয়।
তিনি বলেন, নিহত মোহাম্মদের শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা আব্দুল খলিল মারা যান। এরআগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় শিশুটির মা রুমা আক্তার (৩২) মারা যান।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর (রবিবার) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নম্বরের সি ব্লকের ৫নং অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জনসহ সাত জন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোরে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ আব্দুল খলিল (৪০), তার স্ত্রী রুমা আক্তার (৩২) ও তার ছেলে মোহাম্মদ (১০) মারা যান। এখনও জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে নিহত খলিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৩) ও ইসমাইল (৪)। একই বাসার ভাড়াটিয়া স্বামী-স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী সপ্না (২৫) ও শাহ্জাহান (৩৫) চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহত খলিলের ভায়েরা আব্দুল হালিম জানিয়েছিলেন, লিকেজ থেকে রুমটিতে গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে ছিল। রাতে মশার উৎপাতের কারণে খলিল রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কয়েল ধরানোর জন্য ম্যাচ ধরাতেই আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে তারা সবাই দগ্ধ হয়।
খলিলের বড় ভাই মিলন বলেন, ঐ বাসার গ্যাসের লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে রুমে জমা হয়ে ছিল বলে মনে করছেন তিনি।
ঘটনার পর পর আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।









