নগরীর রাস্তাঘাটে যে ছোট ছোট খানাখন্দ আছে— সেগুলা মেরামতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৌশল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেসে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, চলতি বছরে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে আমাদের রাস্তা-ঘাটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট ছোট খানাখন্দের কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে। বড় রাস্তার কাজ দরপত্র প্রক্রিয়ায় দ্রুত সময়ে ঠিক করার ব্যবস্থা নিয়েছি।
এছাড়া নাগরিক সেবায় নানাবিধ কার্যক্রমের কারণে রাস্তা খননের জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে অনুমতি দেওয়া হয়, রাস্তা খনন করতে গিয়ে দেখা যায়— তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্ধারিত সময়ের ভেতরে আমাদের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারে না। তাছাড়া দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্বিত হয়।
এছাড়া রাস্তা, সারফেজ ড্রেন, ফুটপাতের ১৩টি কার্যক্রম প্রকল্পের ৪টি দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে চলমান। বাকি ৯টি প্রকল্পের দরপত্র চলমান আছে। সড়ক খননের ১২টি কাজের মধ্যে ৭টি চলমান আছে। বাকিগুলো দরপত্র চলছে এবং শিগগিরই এই কাজ শেষ করতে পারবো।
ট্রাফিক অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক অবকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা একটি নির্দেশনা দিয়েছেন, নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়ন করার জন্য। যা পাইলটিং সিস্টেম হিসেবে বাংলামোটর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত পরিক্ষামূলকভাবে চালু হবে। এ বিষয়ে ৫টি প্রকল্প আছে, এর মধ্যে ২টি প্রকল্প চলমান ও বাকি ৩টির দরপত্র চলমান।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ওয়াসা থেকে কিছু খাল আমরা পেয়েছিলাম। এরমধ্যে ৪টি খালকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। মান্ডা, জিরানি, শ্যামপুর, কালুনগর খাল খনন করে যাতে আগের অবয়বে ফিরিয়ে দিতে পারি, অবৈধ দখলদার দূর করে শহরের ভেতরের ইন্টার্নাল কানেকটিভিটির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে আমাদের জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে আশা করি।
নিউমার্কেট, বুয়েটসহ আরও কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা হয়। এই জায়গাগুলোর জলাবদ্ধতা দূর করতে পাঁচটি প্রকল্প নেয়াও হয়েছে। এরমধ্যে একটির কার্যাদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন আগামী মৌসুমের আগে জলাবদ্ধতা দূর করতে পারি। নতুন সংযোজিত ১৮টি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজের জন্য ৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সংসদীয় এলাকার জন্য চারটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মেয়র বা প্রশাসকের জন্য বিশেষ বিশেষ এলাকা থেকে যেসব অনুরোধ আসে— সেখানে ৩৮টি প্রকল্প রয়েছে, যার ৭টি চলমান আছে, ৩১টি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়েছি, যার মধ্যে ৪টির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে, ৩টি দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে।









