বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মো. জসিমকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলেন, এ আসামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৪কে বৈধতা দেওয়ার জন্য জাগ্রত বাংলাদেশ (জেবিডি) মনোনীত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে নোয়াখালী-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিরোধে প্রথম থেকে উত্তরা এলাকায় তার সহযোগীদের নিয়ে সক্রিয় ছিল মর্মে জানা যায়। গত ৫ আগস্ট তার নেতৃত্বে অন্য আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিতভাবে গুলি চালিয়ে মো. জসিমকে হত্যা করে মর্মে সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, সহযোগী অন্য আসামিদের নাম ও পলাতক অস্ত্রধারী আসামিদের গ্রেফতার করাসহ মামলার ভুক্তভোগীকে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামিপক্ষে তার আইনজীবী নাদিম মাহমুদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির ঘটনার সঙ্গে কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে বিনা খরচায় মামলা পরিচালনা করেছেন। সরাসরি ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে অংশ নিয়েছেন। ফেসবুকে এ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে স্মারকলিপিসহ মানববন্ধন করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দুর্নীতির বিপক্ষে কণ্ঠরোধ করার জন্য মিথ্যা মামলায় কৌশলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজন্য রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অংশ নেন মো. জসিম। পরে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ১১ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী মোছা. ফরিদা বাদী হয়ে ২০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।









