বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবছর ১২০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ব্রিটেনের রাজার সম্মাননা দেওয়ার জন্য নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সদ্য ঘোষিত এ তালিকায় কোনও ব্রিটিশ বাংলাদেশির নাম দেখা যায়নি বলে সেখান বাঙালি কমিউনিটির নেতারা। তারা বলছেন, বুধবার (১ জানুয়ারি) লন্ডন সময় রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তালিকায় কোনও ব্রিটিশ বাংলাদেশির নাম জানা যায়নি।
তারা জানিয়েছেন, রাজার নববর্ষ সম্মাননা তালিকায় এবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৩০ জনেরও বেশি মনোনীত হয়েছেন। এই বছরের বিজয়ীদের মধ্যে ৪৯ ভাগ নারী জায়গা করে নিয়েছেন। রাজনীতি, ব্যবসা, শিল্পকলা এবং কমিউনিটির নেতৃত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সম্মাননা সমাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি, সম্পৃক্ততা এবং পেশাদার প্রতিভাকে সম্মানীত করে এবং তাদের ব্যতিক্রমী সাফল্য ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয়। এই বছর দেওয়া ১২০৩ জনের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসা, রাজনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কলাসহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন।
প্রতিবারই এই সম্মাননায় একাধিক ব্রিটিশ বাংলাদেশি এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে বুধবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বছরের তালিকায় কোনও ব্রিটিশ বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের কনজারভেটিভ সরকারের আমলে প্রতি বছর বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি এই তালিকায় ছিলেন। কিন্তু লেবার পার্টি সরকারের আমলে প্রথম তালিকায় কোনও বাংলাদেশির নাম নেই। তবে অনেকে বলছেন, এই তালিকাটি গত কয়েক বছরের তালিকার চেয়ে বেশি স্বচ্ছ।
এ তালিকায় বেশ কয়েকবার মনোনীত হয়েছিলেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের লেবার পার্টির কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান জসিম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই বছরের তালিকায় কোনও বাংলাদেশির নাম শুনিনি। ক্রয়ডন কাউন্সিলের লেবার পার্টির কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলামও একই কথা বলেছেন।
বছরের পর বছর ধরে এ তালিকায় স্থান পেতে তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিয়ে আবেদনপত্র লেখা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদবিরের গুঞ্জন রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছরে এমন অনেক লোককে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের কমিউনিটির জন্য কোনও অবদান রাখতে দেখা যায়নি।









