রাজধানীর বনশ্রীতে হেনস্তার শিকার নারী সাংবাদিক রাফিয়া তামান্না নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) তিনি এই জিডি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে তার সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে এবং ভবিষ্যতে আবারও নির্যাতনের আশঙ্কা তৈরি করছে।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।’
এর আগে, বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বনশ্রী ই-ব্লকের তিন নম্বর সড়কের একটি জুসের দোকানে রাফিয়ার সঙ্গে ‘অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন এক ব্যক্তি। দোকান থেকে বের হওয়ার পর আরও কয়েকজন তাকে উত্যক্ত করে এবং একপর্যায়ে রাফিয়া, তার ভাই ও সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকে মারধর করা হয়। এ সময় শ্লীলতাহানির শিকার হন রাফিয়া।
ঘটনার পর রাফিয়া বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশানসহ তিন জনকে র্যাব-৩ গ্রেফতার করে এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জিডিতে রাফিয়া অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর তাদের আত্মীয়-বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে নিয়ে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ‘বনশ্রীবাসী’, ‘প্রিয় বনশ্রী’, ‘রামপুরা বনশ্রী আফতাবনগর’ নামের ফেসবুক গ্রুপ ও ‘শাহবাগীমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ নামের একটি পেজ থেকে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা সোসাইটির এক নেতা অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তার বাসায় গিয়ে মীমাংসার চাপ দিয়েছিলেন। পরে অভিযুক্তদের বন্ধুরা সেই ব্যক্তিদের দিয়ে ভিডিও করিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ করছে, যা নতুন করে হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।









