কুয়েট শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান শিক্ষক নেটওয়ার্কের

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৩আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৩

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলা সংঘটিত হয়। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এমন সশস্ত্র হামলা এবং হামলা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আমাদের বিস্মিত করেছে।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, হামলার ছবি ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র হাতে অবস্থান নেওয়া এক যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সহযোগী একটি রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে এমন দায়সারা ভূমিকাও আমাদের হতাশ করেছে।

পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে চিহ্নিত হামলাকারীদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ ও পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে বাধ্য করে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত ক্ষোভকে আমলে নিয়ে অভিভাবকসুলভ আচরণের বদলে প্রশাসন তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে অস্বীকার করেন এবং শিক্ষার্থীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন এমন দাবি করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে সংহতি সংগ্রহ করেন। আবার সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ হয়ে শিক্ষকদের মানববন্ধন স্বৈরাচারী আমলের নতজানু চর্চাকেই আমাদের মনে করিয়ে দেয়। অথচ হামলার দুই মাস অতিবাহিত হলেও চিহ্নিত হামলাকারীদের কোনো শাস্তির আওতায় আনা হয়নি; বরং হামলার শিকার ৪২ জন ছাত্রকে স্থানীয়দের করা প্রহসনমূলক ও মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।
 
‘হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিতের বদলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে। যা অপরাধীদের ছাড় দিয়ে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদেরই শাস্তি দেওয়ার শামিল।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারী আমলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চার অবসান ঘটবে-এমন আকাঙ্ক্ষা ছিল শিক্ষার্থীসহ আপামর জনসাধারণের। অথচ, কুয়েটে যা ঘটেছে তা গণ-অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে আমলে নেওয়ার পরিবর্তে হামলা, মামলা, বহিষ্কার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দমন-পীড়নের পুরনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সূচনা ঘটলেও দলীয় সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধের বদলে খোদ রাজনীতিই নিষিদ্ধ করে বিরাজনীতিকরণের চর্চাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যা আপাত দৃষ্টিতে কল্যাণকর মনে হলেও আদতে শিক্ষার্থীদেরই স্বার্থ পরিপন্থী।’

‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুই দফায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে তাদের দাবি ও অবস্থান ব্যাক্ত করলেও সরকার বরাবরই তাদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করেছে, যা শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেই প্রতিয়মান হয়।’

বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনিক প্রধান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং প্রশাসনের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও আচরণে ক্ষুব্ধ।’

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও চলমান অবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সেগুলো হলো—অবিলম্বে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিতে হবে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ ৩৭ জন শিক্ষার্থীর গণবহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা যারা ছাত্রদের ওপর হামলা করে গুরুতরভাবে আহত করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
বেসরকারি মাদ্রাসা-কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে বদলির সুযোগ 
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, জামায়াতের নিন্দা
সর্বশেষ খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী