ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি মো. নান্নু কাজীকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বালিয়াগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর নিয়ে সোহাগ হত্যা মামলায় আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার শামীম হাসান সরদার।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার নান্নু কাজী এ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার প্রিয়কাঠি এলাকার মৃত কাদের কাজীর ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন পূর্ব নামাবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার সঙ্গে একই ব্যবসার সম্পৃক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত ৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাহিন ও তার সহযোগী নান্নু কাজীসহ অন্য আসামিরা মিলে সোহাগকে তার দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় নিয়ে আসে এবং নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
মিডফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে এনে তাকে বিবস্ত্র করে ইট, লোহার রড ও সিমেন্ট ব্লক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও সোহাগের মরদেহের ওপর চালানো হয় বর্বর আক্রমণ। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে র্যাব-১০ আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর আগে এই মামলায় আরও সাতজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃত নান্নু কাজীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন র্যাবের এ কর্মকর্তা।









