ঢাকার ৪৪ থানায় নেই ন্যূনতম জলাধার মান, হারিয়েছে ৬০ শতাংশ জলাধার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ জুলাই ২০২৫, ১৬:২৮আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ১৬:২৮

১৯৮০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পরিমাণ বেড়েছে সাত গুণ। ভূমির তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হারিয়ে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ জলাধার। এছাড়া ঢাকার মাত্র ছয়টি থানা ন্যূনতম জলাধার মান পূরণ করেতে পেরেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ প্রকাশিত নতুন গবেষণা ‘প্রকৃতিবিহীন ঢাকা? প্রাকৃতিক অধিকারভিত্তিক টেকসই নগর ভাবনার পুনর্বিচার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে।

রবিবার (২৭ জুলাই) ঢাকার হলিডে ইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ৪৪ বছরের স্যাটেলাইট চিত্র ও নগর তাপমাত্রা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি এ গবেষণায় ঢাকার পরিবেশগত অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা অব্যবস্থাপনায় ভরা, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নই এই সংকটের মূল কারণ বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণাটির তথ্য উপস্থাপন করে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা সহযোগী সাবরিন সুলতানা ও মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে ঢাকার অর্ধেক গাছ বিলুপ্ত হয়েছে। সবুজ আচ্ছাদন কমে এসেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশে। শহরের বেশিরভাগ এলাকাই মাথাপিছু ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গার আন্তর্জাতিক মান অর্জনে ব্যর্থ। ট্রি-ডেজার্ট অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত আদাবর, রামপুরা, কাফরুল, বংশাল ও ওয়ারীতে গাছ প্রায় নেই বললেই চলে।

ঢাকায় জলাধারের তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, ১৯৮০ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকার ৬০ শতাংশ জলাধার বিলুপ্ত হয়েছে। সর্বমোট জলাধার এখন শহরের মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এলাকাজুড়ে। এছাড়া ঢাকায় প্রায় জলশূন্য এলাকা এখন হলো সূত্রাপুর, মিরপুর, গেন্ডারিয়া, কাফরুল। ঢাকায় ৫০টির মধ্যে কেবল ছয়টি থানা ন্যূনতম জলাধার মান পূরণ করতে পারছে।

গবেষণায় শহরের ভূ-তাপমাত্রা বেড়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, শহরের ভূ-তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে ঢাকার কোনও এলাকাতেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেই। ঢাকায় গরমের হটস্পট শ্যামপুর, হাজারীবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা ও দারুসসালাম সব এলাকায়ই তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির ওপরে।

ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বেড়েছে সাত গুণ, যা এখন শহরের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা দখল করে নিয়েছে। ৯০ শতাংশ বা তার বেশি কংক্রিট গঠিত অঞ্চল হলো বংশাল, সূত্রাপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মিরপুর, রামপুরায়। এছাড়া ৫০টি থানার মধ্যে ৩৭টি এরইমধ্যেই নিরাপদ নির্মাণসীমা অতিক্রম করেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তারা বলেন, ঢাকার উত্তরখান ও তুরাগ শহরের প্রান্তিক অঞ্চল হওয়ায় এখনও কিছুটা সবুজ অঞ্চল ও জলাধার ধরে রেখেছে। তবে ওয়ারী, বংশাল, কোতোয়ালিসহ ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো প্রায় সম্পূর্ণ প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন।

গবেষণাটির পরিচালক ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসাইন খান বলেন, উন্নয়নের নামে আমাদের ঢাকার প্রকৃতি প্রায় ধ্বংস। সমুদ্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার প্রজাতির প্রাণী। আমাদের শহরের দূষণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুদূষণের কারণে ঢাকায় কী পরিমাণ ইনহেলার বিক্রি বেড়েছে এটা খেয়াল করে দেখুন। দিল্লি ও জাকার্তা শহর ঢাকার চেয়ে এগিয়ে। শুধু করাচি ঢাকার নিচে আর আমরাও সে পথেই এগিয়ে চলেছি। ঢাকাকে করাচির পরিণতি থেকে রক্ষা করতে হলে সিঙ্গাপুরের মতো প্রকৃতিভিত্তিক মডেল গ্রহণ করতে হবে।

/এএইচএস/আরকে/
সম্পর্কিত
এআইকে ফাঁকি দিতে নয়, ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান
একটি গোষ্ঠী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে বিকালে সংবাদ সম্মেলন
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম