রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চোর সন্দেহে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলছে, এ ঘটনা প্রচলিত আইন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য এবং বিপজ্জনক।
সোমবার (১১ আগস্ট) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার বটতলা এলাকায় স্থানীয় কয়েক জনের হাতে গণপিটুনিতে নিহত হন ঘনিরামপুর গ্রামের রূপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার প্রদীপ দাস (৫০)। রূপলাল দাস জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন এবং প্রদীপ দাস ভ্যান চালাতেন। মেয়ের বিয়ের দিন নির্ধারণের জন্য আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা ভ্যান চুরির অভিযোগে তাদের থামিয়ে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
আসক বলছে, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন ও আইনগত সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে; যা এই ঘটনায় গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়। এ ধরনের ঘটনা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দীর্ঘায়িত করছে; যা সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি।
সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১১১ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
আসক দাবি করেছে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় আসক।









