ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) রিসার্চ সোসাইটি। জরিপের ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন গবেষণা রিসার্চ সোসাইটির সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিশ্র গবেষণা পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে গত ২৯ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯০০ ভোটারের অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩১০ জন শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিতে ইচ্ছুক, শিবির সমর্থিত প্যানেলে ১৬৭ জন ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে ১৩১ জন ভোট দিতে ইচ্ছুক।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০৪ জন নারী ও ৩৯৬ জন পুরুষ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪৯৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী ও ৪০৫ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থী।
জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তফসিল সম্পর্কে ধারণা আছে ৭০২ শিক্ষার্থীর, আংশিক অবগত আছেন ১৮৯ জন। ৯ জন শিক্ষার্থীর তফসিল সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। সাংবিধানিক ধারণা রাখেন ২৩০ জন শিক্ষার্থী, ধারণা রাখেন না ২৪৩ জন শিক্ষার্থী ও সামান্য ধারণা রাখেন ৪০৩ জন শিক্ষার্থী।
৮৫ জন শিক্ষার্থী মনে করেন, ডাকসুর সংবিধান বাস্তবায়িত হবে। ২৯৬ জন মনে করেন আংশিক বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৬১ জন মনে করেন একেবারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ৩৫৮ জন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেননি।
বয়সসীমা নিয়ে ৫৯৮ জন শিক্ষার্থী মনে করেন, প্রার্থীর বয়স ২০-২৫ হওয়া উচিত। ১৫৩ জন শিক্ষার্থী মনে করেন, বয়স ২৬-৩০ হওয়া উচিত। ১১৯ জন শিক্ষার্থী মনে করেন বয়সসীমা থাকা উচিত নয়।
ভোট প্রদান নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন ১১৮ জন শিক্ষার্থী। ভোট না দেওয়ার পক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী। ভোট প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬৩ জন শিক্ষার্থী।
ভোট দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন ১০২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনটি প্রধান কারণ হলো- রাজনৈতিক হতাশা, অনাস্থা ও চাপ।
ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যক্তিত্বের আলোকে ভোট দেবেন বলে জানান ৫০৪ জন শিক্ষার্থী।প্রার্থীর নেতৃত্বের দক্ষতার আলোকে ভোট দেবেন ২৭৩ জন শিক্ষার্থী।
জরিপে অংশ নেওয়া ২৩৯ জন শিক্ষার্থী মনে করেন, ভোট স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। ২০৬ জন মনে করেন, আংশিক স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। ২৬৭ জন শিক্ষার্থী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। ১৭৪ জন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে মতামত দেননি।
৯০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী মনে করেন, নারী প্রার্থীরা সাইবার বুলিংয়ের স্বীকার হচ্ছেন। ২২১ জন মনে করেন অনেক পরিমাণে হচ্ছেন। ১৬৬ জন এ বিষয়ে কোনও মতামত দেননি।
নির্বাচনকালীন ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে জরিপে দেখা যায়, ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী মনে করেন নির্বাচনের সময় ক্যাম্পাসে পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। ১৪৯ জন মনে করেন শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকবে ও ৮৯ জন মনে করেন ক্যাম্পাস অনিরাপদ হয়ে উঠবে।
জরিপের গবেষক মো. ফাহিম হাসান মেহেদী বিশ্লেষণে বলেন, ‘প্রথমত, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি ছাত্ররাজনীতিতে একটি নতুন ধারা তৈরি করছে, যা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভোট না-দেওয়ার প্রবণতা মূলত আস্থা ও বিশ্বাসের সংকটে নিহিত। যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তবে এই আস্থাহীনতা কাটানো সম্ভব। তৃতীয়ত, সিদ্ধান্তহীন শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ‘কিং-মেকার’ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা শেষ মুহূর্তে ফলাফলকে পাল্টে দিতে পারে।’









