যারা সালমান শাহ হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে তাদের বিচার চাইলেন তার মা নীলা চৌধুরী।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিদেশে থেকে আইনজীবীর ফোনে ভিডিও কলে এসব কথা বলেন সালমানের মা।
২৯ বছর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আদালত হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে রিভিশন মামলার রায় শুনে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর। সবার স্লোগান এখন নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর। আল্লাহ আছেন। ন্যায়বিচার তো আমি পাবোই। কারণ যেটা সত্য, সেটা সত্য। আমি তাহাজ্জুদেই সেটা খবর পাই। হত্যা মামলার যারা তদন্ত করলো না, পিবিআইর বনজ কুমার, পিপি আবু আব্দুল্লাহ, তারা কেন আমার বিপক্ষে গিয়েছিল? আমি তাদেরও বিচার চাইবো। তারা কেন আমার বিপক্ষে গেলো, ৩২ বছরে সাক্ষী সব নষ্ট করে মামলাটাকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করতে চাইলো? এটার বিচারও আমরা আদালতের কাছে চাইবো। এটা আমার মূল দাবি। বাকি তো আসামিদের বিচার হবেই।’
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করে নাই, এটা আমি প্রথম থেকেই বলেছি। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমি দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আজ এই বাচ্চাদের কারণে আমরা এই বিচারটা পেলাম। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন, আল্লাহ ৩০টা বছর জিইয়ে রাখার শক্তি রেখেছেন।’
সাংবাদিকদের কাছে সবার উদ্দেশ্যে সালমান শাহর মা আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই ছিলেন বলে, আমার লাখ লাখ সন্তান, আপনারা মন খারাপ করবেন না। আমরা মামলায় জয়ী হবো। আমরা সালমান শাহকে তো পাবো না, কিন্তু যে অপবাদ আমার ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল, সেটা খণ্ডন হবে এবং এভাবে যেন আর কোনও অন্যায় না হয়। কিন্তু আমি এই মুহূর্ত থেকে পিবিআইর বনজ কুমার, পিপি আব্দুল্লাহ আবুসহ যে জর্জরা ২৯ বছর মামলাটাকে বিতর্কিত করেছে, যারা দায়িত্বে গিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমি আইনসঙ্গত বিচার চাই। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এখন আমার সঙ্গে থাকতে হবে, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি নিশ্চয়ই আসবো। কেন আসবো না? আপনারা জানতে পারবেন, মামলা যখন শুরু হবে। আপনারা সব জানতে পারবেন। দেশবাসীর কাছে আমার আহ্বান আসামিদের আপনারা সবাই চেনেন। আমি সরকারকে আহ্বান জানাবো আমার আসামিরা যাদের সবাই চেনেন, যেসব আসামির নাম স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এসেছে, তারা যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারে। এরা পালিয়ে যাবে। কিন্তু তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে সেই নির্দেশ যেন অনতিবিলম্বে দেওয়া হয়।’
নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আসামিদের যেন গ্রেফতার করা হয়, সেটাই আমার দাবি। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল। আইন যেটা যেভাবে যাবে, তাদের অ্যারেস্ট করা হবে, তাদের সাক্ষ্য দেবে, চার্জশিট দেবে। চার্জশিট চাই আমি।’
এ সময় আদালতে উপস্থিত সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার। আদালতের প্রতি, সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার প্রচেষ্টায় আল্লাহ এটা কবুল করেছেন। আমরা প্রমাণ করে ছাড়বো এটা আত্মহত্যা না, হত্যা ছিল। আমরা সবার সাহায্য চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহর ইচ্ছার ওপর আর কিছু নাই। ইনশাআল্লাহ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’









