জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধনের দাবি টিআইবির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৪৯আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৪৯

উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে বৈষম্যমূলক কমিশন গঠনে সহায়ক এবং প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে— এমন সব ধারাগুলো অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। যে কারণে অধ্যাদেশটির প্রয়োজনীয় সংশোধন করারও দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি। তবে জন্মলগ্ন থেকে এই কমিশনের অকার্যকরতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে খসড়ার ওপর টিআইবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যে সুপারিশ ও মতামত দিয়েছে, তার অনেকগুলোই অনুমোদিত খসড়ায় প্রতিফলিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনের (জিএএনএইচআরআই) মানদণ্ডের উল্লেখ করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টিলগ্নে যে মৌলিক দুর্বলতার বীজবপণ করা হয়েছিল, তা চিরকাল কেন অব্যাহত রাখতে হবে, তা বোধগম্য নয়। অধ্যাদেশে কমিশনের চেয়ারপারসনসহ ৭ জন সদস্যের মধ্যে ২ জন সদস্যকে খণ্ডকালীন নিয়োগের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক এবং কমিশনের উভয় শ্রেণির সদস্যদের জন্য বিব্রতকর। যা প্রতিষ্ঠানটির অকার্যকরতার অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। কার্যক্রম পরিচালনায় কমিশন সদস্যদের মধ্যে মর্যাদা ও এখতিয়ারের বৈষম্য নিরসনের পাশাপাশি গতিশীলতা ও কার্যকরতা নিশ্চিতে এই বিধানটির সংশোধন জরুরি। একইসঙ্গে সব কমিশনারের পদমর্যাদার সমতা, সমপর্যায়ের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে।’’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘স্বচ্ছপ্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসন ও কমিশনার বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পন্নের পর নাম-পরিচয়সহ প্রাথমিক বাছাইকৃত প্রার্থীদের এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের তালিকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশের বিধানের সুপারিশ করা হলেও, তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তা ছাড়া কোনও সংস্থার আটকস্থল যদি কমিশনের কাছে আইনবহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়, তবে তা বন্ধ করা ও দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিতের সুপারিশও গৃহীত হয়নি, যা হতাশাজনক।’’

কোনও আইন, যার বিধানগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানবাধিকার সংরক্ষণের পরিপন্থি, কমিশনকে তা পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য সরকারকে সুপারিশের বিধান যুক্ত করার মতামত প্রদান করা হলেও, তা বিবেচিত হয়নি উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘মানবাধিকারসংক্রান্ত অন্য কোনও আইন এই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এই আইন প্রাধান্য পাবে। ধারা ১৪ এর সঙ্গে এই অংশটুকু উল্লেখ করা হলে ভবিষ্যতে মানবাধিকার প্রশ্নে আইনগত সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা কমিশনের জন্য সহজ হবে। অথচ অধ্যাদেশে তার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি।’’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘‘ঢালাওভাবে সব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক না করে অভিযোগ আমলযোগ্য বিবেচিত হলে সরাসরি তদন্তের আদেশ প্রযোজ্য হওয়ার যে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা গৃহীত হয়নি। এর ফলে কমিশনের কাজে অযথা দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হবে এবং ক্ষেত্র বিশেষে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তির হয়রানি বাড়বে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সম্ভাবনা দুরূহ হবে।’’

‘‘অধিকন্তু, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনও ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে কমিশনে বা কমিশনের তদন্ত দলে প্রেষণে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে সীমিত করা এবং এ ধরনের পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও সব ক্ষেত্রে সবার জন্য উন্মুক্ত, স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে, এই বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। একইভাবে কোনও সরকারি কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হলে সেক্ষেত্রে কমিশনের দ্বিমত থাকলে, তা প্রত্যাখ্যানের সুযোগের বিধান করার সুপারিশও বিবেচনা করা হয়নি। তা ছাড়া কমিশনের আয়-ব্যয়ের হিসাবের ওপর পরিচালিত বাৎসরিক অডিট সম্পন্নের পর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশের ধারাও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ বলে মনে করে টিআইবি।’’

/জেইউ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
হামে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের বিষয়ে হাইকোর্টের রুল
মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পথে হাঁটছে সরকার: টিআইবি 
বন্দি মায়ের শিশুদের শৈশব কাটছে বন্দিত্বেই 
সর্বশেষ খবর
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম