রাজধানীর মিরপুরের আল ফাতিহা বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে সদস্যদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কিং বিডি নামে একটি নাম-সর্বস্ব ওষুধ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে বুধবার (২৬ নভেম্বর) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পাশাপাশি সমিতির পাঁচ কর্মকর্তা ও কিং বিডির এমডিসহ মোট সাতজনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র উপেক্ষা করেন সমিতির কর্মকর্তারা। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের পুর্বানুমোদন না নিয়ে এবং সমিতির বিক্রয় উপ-কমিটির সুপারিশ ছাড়াই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আল ফাতিহা বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ৬৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কিং বিডি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে বিক্রি করে দেন। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জমির বিক্রির মূল্য ২ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করে সমিতির তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এসব অভিযোগে সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজা, কিং বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক খান ও ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা মো আকতারুল ইসলাম জানান, এছাড়াও সমিতির পাঁচ কর্মকর্তা ও কিং বিডির দুই কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন– আল ফাতিহা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সালাম, সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ, সমিতির কোষাধ্যক্ষ এ এস এম জসিম উদ্দিন, কিং বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক খান এবং ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
দুদকের অনুসন্ধানের সময় তাদের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের নামে-বেনামে আরও সহায়-সম্পত্তি থাকতে পারে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আরও কারো সংশ্লিষ্টতা ও তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে সেগুলো সংযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।









