দেশের বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর ‘যমুনা যাত্রা’ কর্মসূচিতে পুলিশের আক্রমণ ও বেধড়ক লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংঘটনটি এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-বিষয়ক বিশেষ সহকারীকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে বাম-প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ ‘যমুনা যাত্রা’ কর্মসূচিতে পুলিশের অতর্কিত আক্রমণ ও বেধড়ক লাঠিচার্জের ঘটনায় দেওয়া এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
উদীচীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে ‘যমুনা যাত্রা’ নামক প্রতিবাদী মিছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনা অভিমুখে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এ সময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনকে রাজপথে ফেলে নির্মমভাবে পেটানো হয়। পুলিশের লাঠির আঘাতে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিনের মাথা ফেটে যায়। এ সময় বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত, সাবেক ছাত্রনেতা জহর লাল রায়, দীপক শীল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা অন্ত অরিন্দম, প্রিজম ফকির, ছাত্রনেতা ইমতিয়াজ রাফিন, শোয়াইব আহমেদ আসিফ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা সুস্মিতা মরিয়মসহ অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার মূল দায়িত্ব ভুলে গিয়ে যেভাবে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই সরকার পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তার বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য সাধনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অতীতের মতো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও দেশপ্রেমিক বাম-প্রগতিশীল শক্তি দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থ ও সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দেবে।’
উদীচী নেতারা বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত দেশে, শপথ নিয়ে যারা কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছেন তারা আজ তাদের মূল দায়িত্ব ভুলে গিয়েছেন। তাদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবাসীকে সাবধান থাকতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশ্রয়ে দেশে আজ নব্য ফ্যাসিবাদের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল অর্জনকে ম্লান করে দিতে বসেছে।’
উদীচী নেতৃবৃন্দ আজকের এই বর্বর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারীর অপসারণের দাবি জানিয়েছে।









