পিকনিকের কথা বলে আশুলিয়ায় নিয়ে গিয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’ ও ভিডিও ধারণের মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে তিন জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন তাজুল ইসলাম তাজ (২৬), শ্রাবণ সাহা (২৩) ও অন্তু দেওয়ান (২৮)। এর মধ্যে তাজুল ইসলাম তাজ মামলার দুই নম্বর এবং শ্রাবণ সাহা তিন নম্বর আসামি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম সুমন তাদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তবে মামলার প্রধান আসামি প্রথমে জবানবন্দি দেওয়ার কথা বলে পরে অস্বীকার করায় আদালত আগামী সাত তারিখ পর্যন্ত তার রিমান্ড শুনানি স্থগিত রেখেছেন।
নয় মাস আগের ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর চার জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ভুক্তভোগী। এতে পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক পান করিয়ে অচেতন করে ‘ধর্ষণ’ ছাড়াও ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর গতকাল (বুধবার) গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএইচ কৃষ্ণ শুনানিতে বলেন, ‘আসামিরা চেতনানাশক খাইয়ে শুধু ধর্ষণই করেনি, ভুক্তভোগীকে ভাইরাল করে দেওয়ারও ভয় দেখিয়েছে। আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে বলে, “শুধু আমরা ধর্ষণ করেই থাকবো না, কাউকে বললে এসিড মেরে ঝলসে দেবো”।’
এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জড়িত আছেন বলে শুনানিতে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। আইনজীবীরা বলেন, ‘আইনের শিক্ষার্থী হয়ে এখনই এসব করলে আদালতে এসে কী করবে? আমরা প্রত্যেকের সর্বোচ্চ রিমান্ড চাচ্ছি।’ এখানে প্রশাসন জড়িত আছে বলেও শুনানিতে এক আইনজীবী অভিযোগ করেন।
আসামিপক্ষের ভিন্ন ভিন্ন আসামির আইনজীবীরা আলাদা করে জামিন আবেদন করেন। এর মধ্যে দুই নম্বর আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান বলেন, ‘ওই দিন আসামি তাজুল ইসলাম তাজ তার নিজ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। এখানে তিনি জড়িত ছিলেন না।
শুনানিতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা শুনানি শেষে আসামিদের ফাঁসি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৭ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। পথে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ওই দিন বিকাল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলেরটেকের মেসে নিজেকে দেখতে পান ভুক্তভোগী। তখন বুঝতে পারেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এ সময় ওই শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার পর জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়েও নেয় তারা। গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা।









