ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগরে অবস্থিত জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা আগুন সাড়ে ৬ ঘণ্টাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার ফাইটারদের ভবনের নিচে থাকা দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন নির্বাপণের কাজ করতে হচ্ছে। এতে আগুনের উৎসে পৌঁছাতে সময় লাগছে। এছাড়া আগুনে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া থাকায় উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট। ছয় ঘণ্টাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ পর্যন্ত আগুন লাগা ভবন থেকে সুস্থ অবস্থায় মোট ৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবন নিয়ে গঠিত। কিন্তু এগুলোর বেইজমেন্ট একটি। এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন।
তিন বলেন, টাওয়ারের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন। ওপরে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজইমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুইটি। বেশিরভাগ দোকানের তালা ও শাটার কেটে কেটে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।
তিনি আরও বলেন, প্রচুর ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার, একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ এখন মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এর আগে শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের আশপাশে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিশ্র ভবন রয়েছে। নিচতলায় প্রচুর দোকান থাকায় সবগুলো শাটার দিয়ে বন্ধ করা। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দোতলা ও তিনতলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ভবনের বেজমেন্টেও দোকান থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে। সেখানে ঝুট গুদামসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে।
তিনি বলেন, দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা চারদিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে এটি আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি বলেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
কেমিক্যালের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, ভবনে কেমিক্যালের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, সেটি ব্যাকড্রাফটের কারণে হয়েছে। ব্যাকড্রাফট হলো-আগুন বা ধোঁয়া কোনো স্থানে আটকে থাকার পর হঠাৎ খোলা হলে সৃষ্ট শব্দ।









