ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গাজার মজলুম জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশে বাংলাদেশে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘বিশ্ব আল-কুদস সপ্তাহ’। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জামি’আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসায় সেমিনার ও বিশেষ বার্তার মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের উদ্যোগে এবং ‘ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ‘আল-কুদস গ্লোবাল উইক বাংলাদেশ’ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের বাংলাদেশ সমন্বয়ক এবং ইস্তাম্বুলের দারুল ফালাহ মাদ্রাসার শিক্ষক রাশেদ কাউসার।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উপলক্ষে তৈরি করা বিশেষ বার্তা পাঠ করেন জামি’আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসার সদরুল মুদাররিস মাওলানা ফারুক আহমেদ। বার্তায় ফিলিস্তিন ও গাজার বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ওলামায়ে কেরামের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আয়োজকরা বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং আল-আকসার সুরক্ষা শুধু একটি আঞ্চলিক লড়াই নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে ফিলিস্তিনের প্রকৃত অবস্থা ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব কুদস সপ্তাহে বাংলাদেশিদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন মাওলানা মাসরুরুল হক। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও কবি সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মুফতি শফি উল্লাহ, মুফতি শারাফাত শরীফ এবং দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মনযূরুল হক।
সেমিনার শেষে ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের মুক্তি ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জামি’আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মাদ ইসমাঈল। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে ফিলিস্তিন সংহতি বিষয়ক আলোচনা, দোয়া ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।








