গাজাকে ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংসস্তূপ’ বানিয়ে রাখার পক্ষে সাবেক ইসরায়েলি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৬ আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৬

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পর ফিলিস্তিনিদের চরম হতাশা ও ধ্বংসলীলাকে কাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে গাজাকে আগামী কয়েক দশক ধ্বংসস্তূপ করে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান গিয়োরা এল্যান্ড। রবিবার ইসরায়েলের ১০৩এফএম রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত মেজার জেনারেল গিয়োরা এল্যান্ড বলেন, গাজার পুনর্নির্মাণ ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী।

গিয়োরা এল্যান্ড বলেন, গাজা পুনর্নির্মিত হোক, এতে ইসরায়েলের কোনও স্বার্থ নেই। এর চেয়ে বরং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধ্বংসস্তূপ হয়ে থাকুক, যা আমাদের জন্য ভালো।

তিনি বলেন, গাজায় যত বেশি হতাশা ও ধ্বংস থাকবে এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার স্মারক হিসেবে এটি আগামী বছরগুলোতে যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে, তা ইসরায়েলের জন্য ততটাই ইতিবাচক।

ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদী এবং বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ অ্যাভিগডোর লিবারম্যানের সমর্থক এল্যান্ড রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী। তবুও গাজা নিয়ে তার দেওয়া পরামর্শগুলো প্রায়শই নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে ঘোষিত নীতিগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত ১৫ দফার গাজা পরিকল্পনাকে হামাসপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এল্যান্ড। রবিবার নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে এল্যান্ড বলেন, যুদ্ধে পরাজিত পক্ষকে খেসারত দিতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া জার্মানি তাদের ২৫ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

এই তুলনার মাধ্যমে তিনি যুক্তি দেন যে, গাজার ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী দখল করে রাখা ইয়োলো লাইন সীমানা ইসরায়েলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এই সীমানা ইসরায়েল ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছে, যা শেষ পর্যন্ত গাজার মোট ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এল্যান্ড বলেন, এর পাশাপাশি ইয়োলো লাইনের জন্য আমাদের ভূখণ্ডগত প্রয়োজন রয়েছে, যা কোনও অবস্থাতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এটি যুদ্ধ, শত্রু হেরে গেছে এবং আমাদের জায়গা প্রয়োজন। বসতি স্থাপনের জন্য নয়, বরং নিরাপত্তা বলয় হিসেবে যেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অবস্থান করতে পারবে।

তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছেন এল্যান্ড। তার মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ইসরায়েল বড্ড বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলের পুরো দৃষ্টিভঙ্গি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আমি মনে করি। এটি নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে, যা কোনও দিন ভালো তো অন্য দিন মন্দ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ১৩৯ জন আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় গত ১০ মাসে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এএ/
সম্পর্কিত
সু চিকে যে দুটি বই পাঠালেন রাজা তৃতীয় চার্লস
এসসিও বৈঠকে ইসহাক দারের উপস্থিতিতে যা বললেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
৪৩ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি, সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ৩৯ হাজার কৃষক পেলেন ১২ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ৩৯ হাজার কৃষক পেলেন ১২ কোটি টাকা
ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের ৭ জন নিষিদ্ধ
ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের ৭ জন নিষিদ্ধ
তারপরও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ঋতুপর্ণাদের উন্নতি
তারপরও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ঋতুপর্ণাদের উন্নতি
টাইগার শ্রফকে গুলি, উদ্বিগ্ন বলিউড: তারকারা কে কী বললেন
টাইগার শ্রফকে গুলি, উদ্বিগ্ন বলিউড: তারকারা কে কী বললেন
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পানাম নগরী ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নকশিকাঁথা-জামদানি দেখে মুগ্ধ
পানাম নগরী ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নকশিকাঁথা-জামদানি দেখে মুগ্ধ