জিয়া উদ্যানে ইউডিএ শিক্ষার্থী শামীম হত্যা, ১৫ বছর পর সহপাঠীর মৃত্যুদণ্ড 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৫আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৫

রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ইউনিভার্সিটি অফ অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্টের (ইউডিএ) ফার্মেসী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম হাসানকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সহপাঠী চৌধুরী মো. জুলকার নাইন ওরফে মনিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনার দীর্ঘ ১৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান সাজার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি জুলকার নাইন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শামীম হাসান ও জুলকার নাইন আদাবরের একটি মেসে একই রুমে থাকতেন। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার জন্য শামীমের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন জুলকার নাইন। শামীম টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে জুলকার নাইন তার ওপর ক্ষোভ পোষণ করেন।

২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে বেড়ানোর কথা বলে শামীমকে হোটেল অ্যারামে নিয়ে যান জুলকার নাইন। সেখানে শামীমকে মদ্যপান করানোর পর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লকারের চাবি ও টাকার জন্য চাপ দিলে শামীম অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুলকার নাইন শামীমের গলায় ছুরিকাঘাত করেন এবং পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মুখমণ্ডল ছুরিকাঘাত করে বিকৃত করে দেন। পরদিন পুলিশ জিয়া উদ্যান থেকে শামীমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন শামীমের চাচা। পরের বছরের ১৩ মার্চ জুলকার নাইনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তৎকালীন এসআই জহুরুল হুদা। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। 

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ৮ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। আজ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। 

/এএসএ/এসটি/
সম্পর্কিত
হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান কারাগারে
মোহাম্মদপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই: দুই আসামি রিমান্ডে
মিরপুরের সেই বৃদ্ধার সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তদন্ত চেয়ে রিট
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম