উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অন্তর্বর্তী সরকার জিম্মি, দাবি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫০আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২২

নতুন শক্তির কথা বললেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষ পর্যন্ত ‘একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর’ কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, এমন বাস্তবতায় আসন্ন ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সরকার নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কি না সে প্রশ্ন উঠছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই দাবি করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এসডিজি বাস্তবায়নে গঠিত ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ’ এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় গঠিত অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটিরও প্রধান ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, অংশীজনের অংশগ্রহণ এবং উন্মুক্ততা তারা দেখাতে পারেনি। শেষ বিচারে গিয়ে তারা নতুন শক্তির কথা বলে একটি ক্ষুদ্র এবং উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেলেন। সে কারণে তারা কার্যকর আচরণও করতে পারলেন না। নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও ঠিকমতো করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “পুরোনো বন্দোবস্ত ভাঙতে ব্যর্থতার পেছনে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা রয়েছে। এর দায়ও বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। নতুন বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও সরকার মূলত উপরি কাঠামো নিয়েই ব্যস্ত ছিল, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ‘জুলাই সনদে’। কিন্তু, সেই সংস্কারের চিন্তাকে জনমানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা বিভিন্ন অংশীজনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তারা উদ্যোগী হয়নি।”

‘জাতীয় সংলাপের নামে যে আলোচনা হয়েছে তা সীমাবদ্ধ ছিল কেবল রাজনীতিবিদদের মধ্যেই’ এমনটি জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, “এর ফলে জাতীয় জাগরণ, জাতীয় অংশগ্রহণ ও ব্যাপক অংশীজনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুন বন্দোবস্তের ধারণা সামনে আনা সম্ভব হয়নি, যা একটি বড় ব্যর্থতা। নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চাওয়া অনেকেই শেষ পর্যন্ত পুরোনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে পড়েছেন। তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়েছেন এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেছেন। এই সুযোগে পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক-বাহক কায়েমি স্বার্থগুলো আবার উত্থান ঘটিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেল, রাজনীতিবিদরা আত্মগোপনে গেল। কিন্তু, আমলারা ফিরে আসল। কারণ পুরোনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষক হচ্ছে আমলাতন্ত্র। আর এই আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”

অনুষ্ঠানে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। নীতি সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডির আরেক সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য সুলতানা কামাল, আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী ও শাহীন আনাম উপস্থিত ছিলেন।

/জিএম/এবিএম/
সম্পর্কিত
আলোচনায় কিচেন কেবিনেট, কারা ছিলেন?
প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
সরকারের মধ্যে ‘কিচেন কেবিনেট’ কেন বলা হয়?
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম