রাজধানীর গুলশানে কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে লোহার রড মাথায় পড়ে মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী পিপলু (৪৩) নামে এক কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানের ১৪০ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ এনে কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় এই মামলা করেন। মামলায় কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন (৭২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল (৪৫) এবং প্রজেক্ট ইনচার্জ আল আমিনের (৩৮) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে অফিস থেকে বের হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন আশফাকুজ্জামান। তখন বিপরীত পাশে নির্মাণাধীন ‘কনকর্ড এম বি আর স্কাইলাইন’ ভবনের ২৫ তলায় কাজ চলছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ওপর থেকে একটি লোহার রড সরাসরি তার মাথায় পড়ে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশফাকুজ্জামান চৌধুরী গুলশানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘জিই হেলথকেয়ার টেকনোলজিস’-এ লজিস্টিকস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমছড়ায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ১১ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। স্বজনরা জানান, স্থানীয় জাগরণী ক্লাবের একটি টুর্নামেন্টের জন্য সেদিন রাতেই তার চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল।
নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কয়েক দিন আগেও একই স্থানে একই ভবন থেকে টিন পড়ে এক ব্যক্তির কপাল কেটে গিয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বহুতল ভবনের কাজ করবে কেন।”
তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতির কারণে আমার মেয়ের সর্বনাশ হয়ে গেলো। মেয়ের যে ক্ষতি হলো তা পূরণ করবে কে? সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন আমার জামাতা। তার মৃত্যুতে ১১ বছর বয়সী একমাত্র শিশুসন্তানের পড়ালেখাসহ ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।”
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








