নরসিংদীর মাধবদীতে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আলাল সরকার, মো. রনি মিয়া ও মোহাম্মদ রিফাত মিয়া।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অন্য হামলাকারীদের গ্রেফতারে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বেশ কয়েকজন আসামি ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এখনও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ক্র্যাব জানায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংগঠনের ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা বাসযোগে ঢাকায় ফেরার পথে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে বাসগুলো সাময়িকভাবে পার্ক করা হয়। এ সময় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী বাস পার্কিংয়ের অজুহাতে সাংবাদিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারী সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা পালিয়ে থাকলেও গ্রেফতারের জন্য নরসিংদীজুড়ে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, হামলাকারীরা যে দলের কিংবা যারাই হোক তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে নরসিংদী জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা পরিকল্পিত। চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় হামলার ঘটনা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ বলেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া ড্রিম হলিডে পার্কের সামনের এ ঘটনায় স্থানীয় চাঁদাবাজদের তালিকা করে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।
ক্র্যাব নেতারা আরও জানান, আহত সাংবাদিকদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক), আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম, পলিটিক্যাল রিপোর্টার ফোরামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।









