পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট-পাশা’র ১০ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষকের অনুমোদন বাতিলের পর আবারও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থাটির কার্ড ইস্যু স্থগিত করা হলেও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো সর্বশেষ নির্দেশনায় পর্যবেক্ষকদের যে মোট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে ‘পাশা’র সদস্যদের সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল মল্লিকের সই করা চিঠিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হয়।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জনসহ সর্বমোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ৫৫ হাজার ৪৫৪ জনের তালিকায় ‘পাশা’র ১০ হাজার ১২৯ জন স্থানীয় এবং ৪৩০ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সরকার ও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ‘পাশা’ নামক এই সংস্থাটির সক্ষমতা না থাকায় তাদের কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু রবিবার প্রেরিত নির্দেশনায় মোট সংখ্যা থেকে ‘পাশা’র সদস্যদের বাদ না দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি বড় সংস্থার ১০ হাজার সদস্য বাদ পড়লে মোট সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে কীভাবে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, “পাশার সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও বর্তমানে তাদের কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা হয়েছে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে কয়েকটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে কমিশন।
বয়সসীমা: পর্যবেক্ষকদের জন্মতারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বা তার আগের হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রমাণ হিসেবে এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধানকে প্রত্যয়ন দিতে হবে যে, নিয়োগকৃত পর্যবেক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
আবেদন যাচাই: আবেদনের সাথে ইও-২ (EO-2) ও ইও-৩ (EO-3) ফরম যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ‘পাশা’ নামক এনজিওটিকে মোট পর্যবেক্ষক সংখ্যার প্রায় ১৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকায় অফিস দেখানো এই সংস্থাটির জনবল ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ইসি শেষ মুহূর্তে তাদের কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।









